12.5 C
London
April 6, 2025
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

প্রথমবারের মতো ‘সত্যিকারের হুমকি’ অনুভব করছে ইসরাইল

ইসরাইলের হামলার পর সিরিয়ার টিয়াস বিমানঘাঁটি (টি৪) দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে তুরস্ক। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হিসার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষাসামগ্রী মোতায়েন করতে যাচ্ছে দেশটি। একটি সূত্র জানিয়েছে, সেখানে রাশিয়ার তৈরি এস৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া তুরস্ক টি৪ বিমানঘাঁটিতে যে রাডার সিস্টেম মোতায়েন করবে, তার রেঞ্জ ৬০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ ইসরাইলের রাজধানী থেকে সম্ভব্য শত্রু এসেট ফ্লাই করার সঙ্গে সঙ্গেই তুর্কি বাহিনী সেটা ট্র্যাকিং করতে সক্ষম হবে।

এর ফলে সমগ্র ইসরাইলের আকাশসীমা তুরস্কের নজরদারিতে থাকবে। আর এতেই ইসরাইলের কাঁপন শুরু হয়ে গেছে।

ইসরাইল তাদের সর্বশক্তি দিয়ে তুরস্কের বিমানঘাঁটি প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। তবে তুরস্ক এতে ঘাবড়ে না গিয়ে ইসরাইলের অপতৎপরতা রুখে নিজেদের মতো কাজ শুরু করে দিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগানের বিরুদ্ধে তার দেশে হঠাৎ একযোগে কঠোর আন্দোলন শুরু হওয়ার পেছনে সিরিয়া নিয়ে তুরস্ক-ইসরাইল সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

এক মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক সিরিয়ার হোমস প্রদেশে অবস্থিত টিয়াস বিমানঘাঁটি (টি৪) ও পালমিরা সামরিক বিমানবন্দরে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি এই স্থাপনাগুলোতে একাধিকবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক ওই এলাকায় হিসার-ও ও হিসার-ইউ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপন করতে চায়। সম্ভব হলে দীর্ঘ-পাল্লার এসআইপিইআর সিস্টেমও মোতায়েন করবে দেশটি। এছাড়া মস্কোর অনুমতিসাপেক্ষে রাশিয়ান তৈরি এস-৪০০ সিস্টেম মোতায়েনের কথাও বিবেচনা করছে তুর্কি সরকার।

এতসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো- ইসরাইলি বিমান হামলা প্রতিরোধ ও ইসলামিক স্টেটের তৎপরতা দমন। এছাড়া সিরিয়ায় ইরান ও রাশিয়ার ক্রমহ্রাসমান উপস্থিতির মাঝে তুর্কি প্রভাব প্রতিষ্ঠা।

এই উদ্দেশ্যে একটি তুর্কি সামরিক প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই ইদলিবে তুরস্ক-নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটি থেকে টি৪ বিমানঘাঁটিতে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। অবশ্য, এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো যান বা সৈন্য মোতায়েন করা হয়নি।

এছাড়াও আলেপ্পো প্রদেশের আজাজ শহরের দক্ষিণে ছয় কিমি দূরে অবস্থিত মেনাঘ সামরিক বিমানঘাঁটিতে একটি নতুন ঘাঁটি নির্মাণকাজ শুরু করেছে তুরস্ক। সূত্র অনুযায়ী, এখানে সাঁজোয়া যান, লজিস্টিকসামগ্রী এবং নির্মাণ উপকরণ মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে এ ঘাঁটিটি উত্তর আলেপ্পোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

টি৪ বিমানঘাঁটিটি মূলত হোমস প্রদেশের টিয়াস গ্রাম থেকে ৬০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। এটি সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি। ২০১৬ সালে ইসলামিক স্টেট যখন পালমিরা দখল করে নেয়, তখন তারা এই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে চারটি সিরিয়ান যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করে।

২০১৮ সালে ইসরাইলি বাহিনী একাধিকবার এই ঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও ড্রোন-সংরক্ষণ হ্যাঙ্গার ধ্বংস করে দেয়। পরে এটি ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার একটি প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হত।

২০২১ সালের ৮ অক্টোবর আবারও ইসরাইলি বাহিনী এখানে বিমান হামলা চালায়। এতে ছয়জন সিরিয়ান সৈন্য আহত হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন-সমর্থিত সিরিয়ান ফ্রি আর্মি ঘাঁটিটি দখল করে।

ইসরাইলের আশঙ্কা, সিরিয়ার সরকার যদি তুরস্ককে তাদের ভূখণ্ডে ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেয়, তাহলে তা ইসরাইলের ‘অপারেশনাল ফ্রিডম’ বা আক্রমণ চালানোর স্বাধীনতাকে ব্যাহত করবে।

নেতানিয়াহুর সরকারের এই উদ্বেগ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয়েছে।

এরই জেরে ইসরাইল গত দুই সপ্তাহে সিরিয়ার টি৪-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, এই হামলায় রানওয়েতে গর্ত তৈরি হয়েছে। এর ফলে সেখানে ভারী পরিবহণ বিমান অবতরণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

ইসরাইলের এই হামলাগুলো সম্ভবত শেষ নয়। ইসরাইল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তার নিরাপত্তা কৌশল আরও রক্ষণাত্মক ও আগ্রাসী করে তুলেছে।

তবে টি৪ বিমানঘাঁটিতে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থাপন করা হলে, তা ইসরাইলি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

সূত্রঃ আনাদোলু

এম.কে
০৫ এপ্রিল ২০২৫

আরো পড়ুন

কানাডার ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ

অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে জার্মানি

এবার গোমূত্র ও গোবর থেকে তৈরি হবে শ্যাম্পু