15.5 C
London
August 1, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকফিচার

প্রথমবার রোগীর শরীরে ইতিবাচক ফল দেখালো রাশিয়ার ক্যান্সার টিকা

ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির গবেষকদের তৈরি ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ প্রযুক্তিভিত্তিক ক্যান্সার টিকা প্রথমবার একজন রোগীর শরীরে প্রয়োগ করে ইতিবাচক ফল পাওয়ার কথা জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, টিকা গ্রহণের পর ওই রোগীর শরীরে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে কার্যকর রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া (ইমিউন রেসপন্স) তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

রাশিয়ার গামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টারের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিন্সবার্গ জানিয়েছেন, গত বছর দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি ব্যক্তিভিত্তিক ক্যান্সার চিকিৎসা অনুমোদন দেয়। এর একটি হলো উন্নত পর্যায়ের মেলানোমা (ত্বকের ক্যান্সার) চিকিৎসার জন্য তৈরি এমআরএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওঅনকোভ্যাক’, অন্যটি কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের জন্য তৈরি পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো ৬০ বছর বয়সী এক তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা রোগীর শরীরে ‘নিওঅনকোভ্যাক’ প্রয়োগ করা হয়। ওই রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছিল। টিকা প্রয়োগের পর বর্তমানে রোগী স্বাভাবিক অনুভব করছেন এবং পরীক্ষায় তার শরীরে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো সময়জুড়ে তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

রুশ গবেষকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে আরও ১০ জন রোগীর জন্য একই ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক ক্যান্সার ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, ব্যক্তিভিত্তিক এই ভ্যাকসিনের বিশেষত্ব হলো প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে এটি তৈরি করা হয়। রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর জেনেটিক বিশ্লেষণ করে এমন একটি টিকা প্রস্তুত করা হয়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সহায়তা করে।

রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রে কাপরিন বলেন, এই প্রযুক্তি ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করাই এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য।

এদিকে, কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের জন্য তৈরি ‘অনকোপেপ্ট’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও ইতিবাচক রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

গামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে মেলানোমা ও কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের পাশাপাশি অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্যও ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ সাফল্য এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের। বৃহৎ পরিসরের ক্লিনিক্যাল গবেষণায় একই ধরনের ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলে তবেই এই প্রযুক্তিকে ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে গবেষণার পরবর্তী ধাপগুলোর ফলাফলের দিকেই নজর রাখছেন চিকিৎসা ও বিজ্ঞান সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ ভিয়েতনাম ডট ভিএন

এম.কে

আরো পড়ুন

গাজাবাসীর জন্য ৫০০০ ফ্রি ভিসা দেবে কানাডা

স্তন ক্যান্সার সনাক্তে আসছে এআই-সমর্থিত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা

মার্কিন অবরোধ ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল রফতানি ইরানের