TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনার সেমিনার বাতিলঃ বিকল্প আয়োজনেও অতিথিদের অনুপস্থিতি

ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনাকে যুক্ত করে সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির জন্য দেওয়া কক্ষের বুকিং বাতিল করায় সেখানে সেমিনার করতে পারেনি আওয়ামী লীগপন্থি সংগঠন গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি)। তবে নির্ধারিত সময়ে অন্য একটি স্থানে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। কিন্তু প্রচারপত্রে অতিথি হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছিল, তাদের অধিকাংশই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।

‘বাংলাদেশ অ্যাট আ টার্নিং পয়েন্ট: ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম’ শিরোনামে সেমিনারটি ২ নভেম্বর ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল জিসিডিজি। সংগঠনটির সভাপতি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে আরও ১০ জন অতিথির নাম প্রচার করা হয়েছিল।

তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে আল্টো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ই-মেইলে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজস্ব সিদ্ধান্তে বুকিং বাতিল করেছে। অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ও বক্তাদের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিপির ফিনল্যান্ড শাখার নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেমিনারটি নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের বক্তব্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়েছিল। এনসিপির নেতাদের দাবি, এসব তথ্য জানানোর পরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের পেছনে এনসিপির যোগাযোগই একমাত্র কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বুকিং বাতিল হলেও অনুষ্ঠানটি পুরোপুরি বন্ধ করেনি আয়োজক সংগঠন। নির্ধারিত সময়ে অন্য একটি স্থানে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। প্রায় ৩৫ মিনিটের সম্প্রচারে একটি কক্ষের জানালার পর্দার সামনে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন বক্তারা। শেষ বক্তা হিসেবে অডিওর মাধ্যমে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো মঞ্চ, ব্যানার কিংবা আনুষ্ঠানিক আয়োজনের দৃশ্য দেখা যায়নি।

সেমিনারের প্রচারপত্রে ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন শহরের জনপ্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও লেখকের নাম ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন হেলসিঙ্কি সিটির কাউন্সিলর এলিনা কাউপিলা, ভান্তা সিটির কাউন্সিলর সোইলে এরিকসন, শেখর আচার্য, ড. পেক্কা তুওমিনেন, জেরে জানতুনেন, দ্রিলন ক্লোকোকি, নিলস হেনরিক ওয়াসেনিয়ুস, মিক্কো ডামসক্যাগ এবং লেখক হাসান ব্লাসিম।

কিন্তু তালিকাভুক্ত অতিথিদের অনেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, তাদের সম্মতি ছাড়াই প্রচারপত্রে নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। হেলসিঙ্কি সিটির কাউন্সিলর এলিনা কাউপিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সম্মতি দেননি। প্রচারে তার নাম বা ছবি ব্যবহারের অনুমতিও দেননি বলে দাবি করেন তিনি।

ভান্তা সিটির কাউন্সিলর শেখর আচার্য জানান, শুরুতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি দিলেও পরে বক্তাদের তালিকা ও আয়োজনের ধরন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার পর তিনি সরে দাঁড়ান। মানবাধিকারকর্মী মিক্কো ডামসক্যাগও জানান, তাকে বক্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে আগে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি ভেবেছিলেন, সাধারণ দর্শক হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এভাবে অতিথিদের সম্মতি ছাড়া নাম ব্যবহারের অভিযোগ সেমিনারটি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে ফিনল্যান্ডের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দলটির ফিনল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক আহাদ শিকদারের বরাতেও একই ধরনের বক্তব্য প্রকাশ করেছে সমকাল।

অন্যদিকে, জিসিডিজির আয়োজনের মূল বক্তব্য ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উগ্রবাদ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা। শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠান করতে না পারা এবং প্রচারিত অতিথিদের বড় অংশের অনুপস্থিতি আয়োজনটির গ্রহণযোগ্যতা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ, বুকিং বাতিল, অতিথিদের সম্মতি ছাড়া নাম ব্যবহারের অভিযোগ এবং বিকল্প স্থানে শেখ হাসিনার বক্তব্য—সব মিলিয়ে ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রবাসী পরিসরেও আলোচনায় এনেছে।

সূত্রঃ চ্যানেল আই অনলাইন\সমকাল

এমকে

আরো পড়ুন

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ

ঢাকার সমাবেশ ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবেঃ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত

টিউলিপ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ৫৯ হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ