24.9 C
London
September 29, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সরব এড মিলিব্যান্ড

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তার বক্তব্যের সময় সম্মেলনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় করতালি শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিলিব্যান্ড বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির একমাত্র পথ হলো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান—একটি নিরাপদ ইসরায়েল ও একটি নিরাপদ ফিলিস্তিন, যেখানে উভয় জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা, মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকবে।

তিনি বলেন, ৭ অক্টোবর হামাসের প্রাণঘাতী হামলা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছিল। লেবার পার্টি যেখানেই এবং যে রূপেই হোক ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যমান হুমকি এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চাওয়া শক্তির বিরুদ্ধেও দলটি অবস্থান করবে বলে জানান তিনি।

তবে মিলিব্যান্ড বলেন, হামাসের ওই হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।

তার ভাষায়, “এই দুর্ভোগ বিশ্ব বিবেকের ওপর একটি কলঙ্ক।”

ফিলিস্তিনিদের দুর্দশায় উদ্বিগ্ন যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের লাখো মানুষের উদ্দেশে মিলিব্যান্ড বলেন, “আমরা আপনাদের কথা শুনছি। আপনারা সঠিক ছিলেন।”

মিলিব্যান্ড জানান, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানে একটি ‘রিসেট’ বা নতুন পরিবর্তন এসেছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে সংঘটিত কথিত ‘জাতিগত নির্মূল’-এর বিষয়টি যুক্তরাজ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

তিনি আরও বলেন, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ, ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের অবৈধ দখল এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো নিয়েও যুক্তরাজ্য অবস্থান স্পষ্ট করছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে মিলিব্যান্ড ঘোষণা করেছিলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি এসব বসতির নির্মাণ, অবকাঠামো ও বিপণনে অর্থায়ন বা সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

ব্রিটিশ সরকারের নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েলি বসতি ও বসতি সম্প্রসারণ; ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভেতরের স্বাভাবিক বাণিজ্য নয়। একই সঙ্গে লেবার সরকার দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

মিলিব্যান্ডের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে দলটির নীতির ওপরও চাপ রয়েছে। সম্মেলনের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে ব্রিটেনের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর ইসরায়েলও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ডেলিভারি দিতে ড্রোন সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা করেছে অ্যামাজন

যুক্তরাজ্যে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছাড়ায় রেকর্ড

ইংল্যান্ডের সারেতে বিশাল সিঙ্কহোল, বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ