TV3 BANGLA
স্পোর্টস

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বড় সংকটঃ ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের জাতীয় দলগুলোর বয়কটের ঘোষণা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক পরিচালনার জন্য একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) গঠন এবং সেই প্রতিষ্ঠানের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরিকল্পনাটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তাদের ৫৫টি সদস্য দেশের কোনো জাতীয় দলই ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর সংস্থাটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বকাপকে কখনোই বিনিয়োগের পণ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে খেলোয়াড়, জাতীয় দল এবং সমর্থকদের অবদানে গড়ে ওঠা ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য। তাই এর কোনো অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

উয়েফা আরও জানায়, ফিফা যদি সম্পূর্ণভাবে এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার না করে এবং ভবিষ্যতে ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোকে বেসরকারি মালিকানার জন্য উন্মুক্ত না করার বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা না দেয়, তাহলে উয়েফাভুক্ত কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। সংস্থার ভাষায়, ফুটবলের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের মুনাফার ওপর নির্ভর করতে পারে না এবং ফুটবলের স্বার্থ কখনোই শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের অধীন হওয়া উচিত নয়।

ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) উয়েফার অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছে, তারা ইউরোপীয় ফুটবল পরিবারের সঙ্গে একাত্ম। এফএর মতে, বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ এবং এটি সবসময় ফুটবলেরই থাকবে।

অন্যদিকে ফিফা বলছে, এটি কেবল একটি প্রস্তাব, যা সদস্য দেশগুলোর গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে পারে। ইনফান্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২১১টি সদস্য দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এবং ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন পেলেই পরিকল্পনাটি কার্যকর হবে। তিনি দাবি করেন, নতুন কাঠামো চালু হলে সদস্য দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং প্রতিটি সদস্য দেশ আগামী অর্থায়ন চক্রে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানকে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ইটারনাল’ নতুন প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা কিনতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

শুধু উয়েফাই নয়, এশিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফসিও (AFC) পরিকল্পনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি মনে করছে, মহাদেশীয় ফুটবলের ভিত্তি গড়ে উঠেছে সংহতি, সহযোগিতা ও স্বচ্ছতার ওপর। ফিফার একতরফা এই উদ্যোগ সেই ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে এবং সব কনফেডারেশনের সমর্থন ছাড়া এমন উদ্যোগ সফল হওয়া কঠিন হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ফুটবল কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পদ নয়; এটি সমর্থক, খেলোয়াড় এবং কোটি কোটি মানুষের আবেগের অংশ। বিশ্বকাপকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বিক্রি করা উচিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উয়েফার দেশগুলো যদি তাদের ঘোষিত অবস্থানে অটল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালিসহ ইউরোপের শীর্ষ জাতীয় দলগুলোর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি এবং বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর ভোটের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

ফুটবল ইতিহাসের সময়রেখা (১৫২৬ – ২০২৬) এক নজরে ৫০০ বছরের বিবর্তন

নিউজ ডেস্ক

রেকর্ড পরিমাণ অর্থ দিয়ে হলেও সালাহকে নিতে চায় আল ইত্তিহাদ

নিউজ ডেস্ক

না ফেরার দেশে ক্রিকেট কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্স