TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

বন্ডের অনুমোদন নবায়ন করল না লুক্সেমবার্গঃ ইউরোপীয় বাজারে চাপে ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মধ্যেই ইসরায়েলি বন্ডের অনুমোদন আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গ। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক বাজার থেকে ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

৩১ আগস্ট ইসরায়েলি বন্ডের প্রসপেক্টাসের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি আর নবায়ন করা হয়নি। লুক্সেমবার্গের অর্থমন্ত্রী জিলস রথ দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএলকে জানিয়েছেন, আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএসএসএফ গত মে মাসেই আগস্টের পর ইসরায়েলি বন্ডের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো দেশ ইউরোপীয় বাজারে বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে চাইলে সাধারণত ইইউভুক্ত একটি দেশের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ইসরায়েল দীর্ঘদিন এই ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় বাজার ব্যবহার করে আসছিল।

যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আয়ারল্যান্ড ইসরায়েলি বন্ডের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছিল। তবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ড গত বছর এই অনুমোদন নবায়ন বন্ধ করে দেয়। এরপর লুক্সেমবার্গ দায়িত্বটি গ্রহণ করলেও সেখানেও ইসরায়েলি বন্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত জুলাইয়ে লুক্সেমবার্গসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে ইসরায়েলি বন্ড বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। সংস্থাটির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ ইসরায়েল সরকার গাজা ও ফিলিস্তিনে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করছে।

অ্যামনেস্টির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব অর্থের ব্যবহার এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

লুক্সেমবার্গের সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় বাজারে নতুন করে বন্ড ইস্যু করতে হলে ইসরায়েলকে এখন অন্য কোনো ইইউ সদস্য দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে। তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গাজা যুদ্ধ নিয়ে জনমত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় নতুন কোনো দেশ ইসরায়েলি বন্ডের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক বাজার থেকে ইসরায়েল প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে আসছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের পথ সংকুচিত হলে ইসরায়েলের অর্থ সংগ্রহের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ইউরোপীয় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইসরায়েলি বন্ড বিক্রি এখনো চালু রয়েছে। ফলে ইউরোপে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ সংগ্রহের পথ বাধাগ্রস্ত হলেও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ইসরায়েলের অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।

লুক্সেমবার্গের এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের ওপর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অবস্থান কঠোর হওয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

সূত্রঃ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল\আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরানে ‘সামরিক অভিযান’ শেষঃ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কানাডার নাগরিকত্ব পাবেন অবৈধ অভিবাসীরা

ইসরায়েলকে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্সের বিরল হুঁশিয়ারি