TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসনের পথ বাড়াতে চায় ব্রিটেন

অনিয়মিত অভিবাসন কমিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ শক্তিশালী করতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের বৈধ পথ বাড়ানোর বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করতে চায়।

বৈঠকে সারাহ কুক জানান, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে যেসব খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে, সেসব খাতকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হলে দুই দেশই উপকৃত হবে। তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মী তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় মানবপাচারকারী চক্রের প্রতারণা এবং বিদেশগামী কর্মীদের শোষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দুই পক্ষই মনে করে, বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়লে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে আরও আধুনিক করতে ব্রিটেনের বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশি কর্মীরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবেন।

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর প্রস্তাব দেন, বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পেশাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা উচিত। তার মতে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জনের সুযোগ বাড়লে বাংলাদেশি তরুণরা নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের প্রতি আরও আগ্রহী হবেন।

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান পঞ্চম। তবে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করায় বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার তুলনামূলকভাবে কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় ৪০ শতাংশ অনুমোদিত হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে সেই হার ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। একই সময়ে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো শীর্ষ পাঁচ জাতীয়তার তালিকায় বাংলাদেশ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ সরকারের এই বার্তা তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো ভিসা চালুর ঘোষণা নয়। তবে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও কাঠামোগত উদ্যোগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।

সূত্রঃ ইনফো মাইগ্র‍্যান্টস

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে পুনরায় মানুষ বর্ণবাদের কারণে আতঙ্কিতঃ কিয়ার স্টারমার

সব মামলা থেকে খালাস তারেক রহমান

যুক্তরাজ্য নিয়ে রাশিয়ার বিষোদগার

নিউজ ডেস্ক