18.1 C
London
September 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের সবচেয়ে বিরল সাপই বিষধর! গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

গ্রেট ব্রিটেনে এতদিন অ্যাডারকেই একমাত্র বিষধর স্থানীয় সাপ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে নতুন এক গবেষণায় দেশটির সবচেয়ে বিরল সাপ স্মুথ স্নেক (স্মুথ স্নেক)-এর শরীরেও বিষ প্রয়োগের সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, সাপটির ওপরের চোয়ালের পেছনের দিকে থাকা বিশেষ ধরনের খাঁজযুক্ত দাঁত শিকারের শরীরে অল্প পরিমাণ বিষ প্রবেশ করাতে পারে।

হারপেটোলজিস্ট আলেসান্দ্রো পাতেরনা ও গ্রেগোয়ার মেইয়ার তাদের গবেষণাপত্রে স্মুথ স্নেককে বিষধর সাপ হিসেবে পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। সাপটির পেছনের দাঁতগুলো কিছুটা খাঁজযুক্ত এবং সেগুলো মাড়ির একটি বিশেষ আবরণে ঘেরা। এ ধরনের দাঁত সাধারণত ‘রিয়ার-ফ্যাংড’ বা পেছনের দাঁত দিয়ে বিষ প্রয়োগকারী সাপের বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত।

তবে গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, স্মুথ স্নেক মানুষের জন্য বিপজ্জনক নয়। এর বিষপ্রয়োগের ব্যবস্থা মূলত ছোট শিকারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিবর্তিত হয়েছে। মানুষের মতো বড় প্রাণীর ওপর এই বিষ কার্যকর করার জন্য সাপটির কোনো বিশেষ সক্ষমতা নেই।

স্মুথ স্নেক (Coronella austriaca) ব্রিটেনের সবচেয়ে বিরল সাপ। দক্ষিণ ইংল্যান্ডের নিচু এলাকার হিথভূমিতে এর বসবাস সীমাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ বা আইইউসিএন (IUCN)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী সাপটি বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ব্রিটেনের সবচেয়ে ছোট সাপ হিসেবেও স্মুথ স্নেক পরিচিত। এটি অত্যন্ত গোপনীয় স্বভাবের এবং সাধারণত খোলা জায়গায় খুব কম দেখা যায়। এর প্রধান খাদ্যের মধ্যে রয়েছে টিকটিকি। মাঝে মাঝে অন্য সাপ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীও শিকার করে।

বিরল প্রজাতি হওয়ায় স্মুথ স্নেক ইউরোপীয়ভাবে সুরক্ষিত প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। এর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং অতীতে যেসব এলাকায় সাপটির বসবাস ছিল, সেখানে পুনঃপ্রবর্তনের জন্য বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, স্মুথ স্নেকের বিষধর বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ নতুন কোনো বিষয় নয়। এর বিষগ্রন্থির অস্তিত্ব এক শতাব্দীরও বেশি আগে শনাক্ত করা হয়েছিল। নতুন গবেষণাটি মূলত এর পেছনের দাঁতের গঠন এবং বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য দিয়েছে।

প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক উলফগ্যাং উস্টার জানিয়েছেন, সাপের ক্ষেত্রে ‘বিষধর’ ও ‘বিপজ্জনক’ বিষয় দুটি এক নয়। পৃথিবীর বহু সাপের শরীরে কোনো না কোনো মাত্রায় বিষপ্রয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কোনো প্রজাতির ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা ছোট শিকার নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৪ হাজার প্রজাতির সাপ রয়েছে। এদের বড় একটি অংশ ক্যানিওফিডিয়া (Caenophidia) গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। ধারণা করা হয়, প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে এই গোষ্ঠীর সাধারণ পূর্বপুরুষের শরীরেও ছোট বিষগ্রন্থি এবং চোয়ালের পেছনে খাঁজযুক্ত দাঁত ছিল।

পরবর্তী বিবর্তনে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে বিষপ্রয়োগের ব্যবস্থা ভিন্নভাবে বিকশিত হয়েছে। কিছু সাপের ক্ষেত্রে ভাইপার ও এলাপিডদের মতো উন্নত বিষদাঁত তৈরি হয়েছে। আবার কিছু সাপ বিষপ্রয়োগের ব্যবস্থা পুরোপুরি হারিয়েছে। অন্য কিছু প্রজাতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল বিষগ্রন্থি ও পেছনের দাঁতের ব্যবস্থা ধরে রেখেছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটেনের গ্রাস স্নেক (গ্রাস স্নেক)-এর শরীরেও বিষগ্রন্থি এবং সামান্য পরিবর্তিত আবরণযুক্ত দাঁত রয়েছে। ধারণা করা হয়, উভচর প্রাণী শিকার করার সময় শিকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ব্যবস্থা তাদের সহায়তা করে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটেনে স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী সাপগুলোকে পুরোপুরি বিষহীন বলা যায় না। তবে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার দিক থেকে অ্যাডার (অ্যাডার)-ই ব্যতিক্রম। স্মুথ স্নেক ও গ্রাস স্নেক মানুষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সামান্য আঁচড়ের মতো ক্ষতি করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মুথ স্নেকের বিষধর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাওয়ায় সংরক্ষণকর্মীদের জন্য কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ ‘বিষধর’ শব্দটি সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় ‘বিপজ্জনক’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। অথচ বৈজ্ঞানিকভাবে একটি প্রাণী বিষধর হলেও তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর নাও হতে পারে।

গবেষক উলফগ্যাং উস্টারের বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষ, শিশু কিংবা পোষা প্রাণীর জন্য স্মুথ স্নেককে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার কারণ নেই। নতুন গবেষণাটি মূলত সাপটির বিষপ্রয়োগের বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে; মানুষের জন্য এর ঝুঁকির ক্ষেত্রে এতে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কনভারসেশন

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য সরকারের মতের বাইরে এনসিএমডিঃ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে ‘স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ’

যুক্তরাজ্যে সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাংলাদেশি তরুণ তানভীরুল ইসলাম হত্যা

৩ পাউন্ডে মুরগি কেনার দিন শেষ: ব্রিটিশ পোলট্রি মালিক

অনলাইন ডেস্ক