15.7 C
London
October 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে সন্তানকে ঢাল বানিয়ে থাকার সুযোগ বন্ধের উদ্যোগঃ বহিষ্কারের ঝুঁকিতে অভিবাসীরা

ব্রিটেনে সন্তানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক থাকার মিথ্যা দাবি করে দেশটিতে থাকার সুযোগ নেওয়া অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মানবাধিকার আইনের আওতায় পারিবারিক জীবনের অধিকার ব্যবহার করে আশ্রয় আবেদন বা বহিষ্কার ঠেকানোর সুযোগ সীমিত করতে নতুন সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা পারিবারিক জীবনের অধিকারের অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো অভিভাবক সন্তানের সঙ্গে কত দিন ধরে এবং কত ঘন ঘন যোগাযোগ রেখেছেন, তা পারিবারিক সম্পর্কের বাস্তবতা নির্ধারণে আদালতকে বিবেচনায় নিতে হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বহিষ্কার এড়াতে অভিবাসীরা যেন শেষ মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করে বা সন্তানের লালন-পালনে নিজেদের সম্পৃক্ততা অতিরঞ্জিত করে পারিবারিক জীবনের অধিকার দাবি করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। তবে সংশোধনীটি এখনো সংসদে বিবেচনাধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিলের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত; একে ইতোমধ্যে কার্যকর আইন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে এমন কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা বা কারাবন্দি থাকার পরও কোনো কোনো অভিবাসী সন্তানের লালন-পালনে সম্পৃক্ততার দাবি তুলে মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে ব্রিটেনে থাকার অনুমতি পেয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে আলবেনীয় নাগরিক ক্লেভিস দিশার উদাহরণ তুলে ধরেছে দ্য টেলিগ্রাফ। ৩৯ বছর বয়সী দিশা অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আশ্রয় আবেদনও ব্যর্থ হয়েছিল। পরে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তাকে আলবেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে অথবা তার ছেলে যুক্তরাজ্যে বাবাকে ছাড়া থাকলে সন্তানের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে। সন্তানের খাবারের নির্দিষ্ট ধরন, সামাজিক পরিস্থিতি ও উদ্বেগসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ও আদালতে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের অর্থ হিসেবে পরিচিত আড়াই লাখ পাউন্ডসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর দিশা দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও পারিবারিক অধিকারের প্রশ্নে তিনি যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিলের আওতায় জননিরাপত্তাকে ব্যক্তিগত পারিবারিক অধিকারের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধানও আনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বহিষ্কারের মুখে পড়ে অযৌক্তিকভাবে শেষ মুহূর্তে আশ্রয় বা সুরক্ষার আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়নে সেই বিলম্ব বিবেচনা করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারের জন্য নির্ধারিত কোনো ব্যক্তিকে তার দেশে থাকার পক্ষে সব যুক্তি ও প্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা জানিয়ে নোটিশ দেওয়া হবে। এর মধ্যে আশ্রয় বা অন্য কোনো ধরনের সুরক্ষার দাবিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পর কিংবা বহিষ্কারের নোটিশ পাওয়ার পর নতুন আবেদন করা হলে, কেন আবেদনটি দেরিতে করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিবেচনা করা হতে পারে।

মানবপাচারের শিকার হওয়ার দাবিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ কখন সামনে আনা হচ্ছে, সেটিও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো, বহিষ্কার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে বারবার নতুন দাবি উত্থাপনের সুযোগ কমানো এবং অভিবাসনসংক্রান্ত আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ব্রিটিশ জনগণের আস্থা থাকতে হবে যে দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত এবং অপব্যবহারের সুযোগমুক্ত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা রক্ষা করবে, এর অপব্যবহার ঠেকাবে এবং যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই, তাদের দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিলটি জুলাইয়ে হাউস অব কমন্সে দ্বিতীয় পাঠে ১৭৪ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছিল। এতে করদাতাদের অর্থে আবাসন ও অন্যান্য সহায়তা পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য তৈরি হলে সেই খরচে অবদান রাখার ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থ থেকে কিস্তিতে মোট ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বতন্ত্র অভিবাসন আপিল কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক, পারিবারিক জীবনের অধিকার এবং আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কীভাবে চূড়ান্ত আইনে রূপ নেবে, তা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে টানা সাত দিনের ধর্মঘট, রাজধানীতে পরিবহন অচলাবস্থা আশঙ্কা

আই,এম,এফকে চ্যালেঞ্জ করেছে যুক্তরাজ্য

লন্ডনে অনুমোদিত নতুন বাড়ির মাত্র ৩% প্রবেশযোগ্যঃ গবেষণায় প্রকাশ