TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশিসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘ভিসা বন্ড’ বাধ্যবাধকতা

বাংলাদেশিসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ড নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট জানিয়েছে, এসব দেশের নাগরিকদের B1/B2 (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আলজেরিয়া, অঙ্গোলা, আন্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ভুটান, বটসওয়ানা, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কোট দ’আইভরি, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজস্তান, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যার পরিমাণ ৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার অথবা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে। বন্ডের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করবেন কনসুলার অফিসার ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময়। আবেদনকারীকে এ জন্য DHS Form I-352 পূরণ করতে হবে এবং অর্থ জমা দিতে হবে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট Pay.gov–এর মাধ্যমে।

কনসুলার অফিসারের নির্দেশ ছাড়া আগে থেকে কোনো অর্থ প্রদান করলে সেটি ফেরত পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি, ভিসা বন্ড প্রদান করা হলেও তা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়—এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে শুধুমাত্র তিনটি নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়ে। সেগুলো হলো বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ. কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ডালেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। এই শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে অথবা প্রস্থানের তথ্য সঠিকভাবে রেকর্ড নাও হতে পারে।

নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে ভিসা বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। যেমন—ভিসাধারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশই না করলে, অথবা পোর্টে প্রবেশের চেষ্টা করলেও ভিসা অনুমোদিত না হলে।

অন্যদিকে, ভিসা বন্ড লঙ্ঘিত বলে গণ্য হবে যদি কেউ অনুমোদিত সময়ের পরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের চেষ্টা করেন অথবা আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন করেন। এমন পরিস্থিতিতে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো B1/B2 ভিসায় মেয়াদ অতিক্রমের হার কমানো এবং বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থাপনাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভরযোগ্য করা।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট Travel.State.Gov–এ।

সূত্রঃ ট্রেভেল স্টেইট ডট গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

এবার মালদ্বীপগামী বিমানের সকল ফ্লাইট বাতিল করল ভারত!

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু অভিবাসীদের জন্য অভিভাবক খুঁজছে ইটালি

বাকিংহাম প্যালেসে বিস্ফোরণের চেষ্টা