13 C
London
October 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি করল যুক্তরাজ্য

বিদেশ ভ্রমণের আগে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য গন্তব্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)। রাজনৈতিক সংঘাত, সন্ত্রাস, অপহরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অন্যান্য কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট–এর ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ২২৬টি দেশ ও অঞ্চলের জন্য এফসিডিওর ভ্রমণ পরামর্শ রয়েছে। এর মধ্যে ৭২টি দেশ বা অঞ্চলের কোনো না কোনো অংশ নিরাপত্তা ঝুঁকি, স্বাস্থ্যঝুঁকি কিংবা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আইনি ব্যবস্থার পার্থক্যের কারণে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এফসিডিওর পরামর্শে কোথাও ‘সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন’, কোথাও ‘অত্যাবশ্যক ছাড়া ভ্রমণ করবেন না’ এবং কোথাও নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সীমান্তবর্তী এলাকায় ভ্রমণ না করার নির্দেশনা রয়েছে।

সংস্থাটির পরামর্শ উপেক্ষা করে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ করলে তার ভ্রমণ বিমা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। বিদেশে জরুরি পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলার সহায়তাও সীমিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

১১ দেশে সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শঃ

এফসিডিও বর্তমানে আফগানিস্তান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, হাইতি, ইরান, মালি, নাইজার, রাশিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন—এই ১১ দেশে সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বেলারুশে গ্রেপ্তারের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।

বুরকিনা ফাসোতে সন্ত্রাসী হামলা ও অপহরণের হুমকি, হাইতিতে অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানে ব্রিটিশ নাগরিকদের গ্রেপ্তারের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কথা জানিয়েছে এফসিডিও।

মালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নাইজারে সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক অপহরণের খবর বাড়ার কারণে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

রাশিয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ও হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ সুদানে সশস্ত্র সহিংসতা ও অপরাধের ঝুঁকি এবং সিরিয়ায় চলমান সংঘাত ও অনির্দেশ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। ইয়েমেনের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪১ দেশের নির্দিষ্ট এলাকায় ‘সব ধরনের ভ্রমণ নয়’

এফসিডিও আরও ৪১টি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

এর মধ্যে ভারতের পাকিস্তান সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এবং জম্মু ও কাশ্মীর, পাকিস্তানের আফগানিস্তান সীমান্তের ১০ মাইলের মধ্যে, খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকা, তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকা ছাড়া অন্যান্য অঞ্চল রয়েছে।

ইসরায়েলের ক্ষেত্রে গাজা, তুলকারেম, জেনিন, তুবাস, উত্তর ইসরায়েল ও অধিকৃত গোলান মালভূমিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা রয়েছে।

মিসরের উত্তর সিনাই ও লিবিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা, জর্ডানের সিরিয়া সীমান্তের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া, ইরাক, ইথিওপিয়া, লেবানন, মোজাম্বিক, কঙ্গোসহ আরও কয়েকটি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল নিয়েও সতর্কতা রয়েছে।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সতর্কতাঃ

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এফসিডিও পার্বত্য চট্টগ্রামে অত্যাবশ্যক ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের পুরো দেশের জন্য এই সতর্কতা প্রযোজ্য নয়। এফসিডিওর তালিকায় নির্দিষ্টভাবে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস বা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ‘অত্যাবশ্যক ছাড়া ভ্রমণ না করার’ তালিকায় রাখা হয়েছে।

একই শ্রেণিতে অ্যাঙ্গোলার কাবিন্দা প্রদেশের নির্দিষ্ট এলাকা, কম্বোডিয়ার থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী অঞ্চল, মেক্সিকোর বিভিন্ন এলাকা, মালয়েশিয়ার পূর্ব সাবাহর উপকূলীয় দ্বীপ, পেরুর নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার নাম রয়েছে।

দুই দেশে পুরোপুরি নয়, অত্যাবশ্যক ছাড়া ভ্রমণঃ

এফসিডিও কিউবা ও উত্তর কোরিয়ায় অত্যাবশ্যক ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

কিউবার ক্ষেত্রে জরুরি অবকাঠামোয় গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান বিঘ্নের কথা বলা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে এফসিডিও।

এফসিডিওর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ভ্রমণ ‘অত্যাবশ্যক’ কি না, সে সিদ্ধান্ত ব্যক্তির নিজস্ব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। জরুরি পারিবারিক বা ব্যবসায়িক দায়িত্ব থাকতে পারে এবং ব্যক্তিকেই তার পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিদেশে যাওয়ার আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর পাসপোর্টের মেয়াদ, ভ্রমণ বিমা কার্যকর আছে কি না এবং নির্ধারিত গন্তব্যে ভ্রমণের বিষয়ে সরকারি পরামর্শ কী—এসব যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট\ যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)

এমকে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের আকাশে আসছে উড়ন্ত ট্যাক্সিঃ ২০২৮ সালে যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ

বিদেশিদের জন্য সরকারি চাকরির পোর্টাল চালু করল যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে ইসলামিক সামার ক্যাম্পে শিশুদের ‘জিহাদি আদর্শে’ গড়ার অভিযোগে বিতর্ক