TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে পরিত্যক্ত ৮ বিমানবন্দর সচল করার উদ্যোগ বেবিচকের

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অচল ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরগুলো পুনরায় সচল করার বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার এবং অভ্যন্তরীণ আকাশপথের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বেবিচকের বোর্ড সভায় এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এ প্রসঙ্গে বলেন, “অচল বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সেগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল, তাই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমরা কাজ করবো। আমাদের বোর্ড সভায় বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা ও অনুমোদন পেয়েছে।”

বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট) থেকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা এখন পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায়।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বর্তমানে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দেশের অনেক সম্ভাবনাময় অঞ্চল এখনও আকাশপথের সুবিধার বাইরে থাকায় সেসব এলাকার অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বোর্ড সভায় জানানো হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী ও কুমিল্লা বিমানবন্দর বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এসব অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এছাড়া স্বাধীনতার পর নির্মিত বগুড়া স্টলপোর্ট এবং শমশেরনগর বিমানবন্দর বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যবহার করছে। অপরদিকে বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দরও দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত।

বেবিচকের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা বিমানবন্দরগুলো হলো—বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, খানজাহান আলী, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী।

বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে বিমানবন্দরগুলোর উপযোগিতা যাচাই করে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ জন্য দ্রুত ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ বা সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে কোন বিমানবন্দরটি আগে সচল করা হবে।

সভায় উপস্থিত সদস্যরা উল্লেখ করেন, এসব বিমানবন্দর চালু হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৮টি বিমানবন্দর সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী কিনা, তা যাচাইয়ের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

এম.কে

আরো পড়ুন

হাসিনাপুত্র জয়ের ভার্চুয়াল বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

গাজীপুর জেলা কারাগারে গোলাগুলি

ড. ইউনূস সরকারের পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতায় ভারতের উদ্বেগ, সীমান্তে বাড়ছে সামরিক তৎপরতা