8.7 C
London
October 23, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ৫ বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপানঃ অগ্রাধিকার পেতে পারে শিল্প ও জ্বালানি খাত

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৬৩৫ কোটি ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে জাপান। জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্প, উৎপাদন ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা চূড়ান্ত চুক্তির তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপান প্রায় এক লাখ কোটি ইয়েনের সমপরিমাণ বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা করছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৬৩৫ কোটি ডলার। আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এ বিনিয়োগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে বিনিয়োগের খাত, প্রকল্পের তালিকা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা। এ সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সম্ভাব্য যৌথ বিবৃতিতেও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, গাড়ি নির্মাণ ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল, উৎপাদনকেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নে জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ দেখাতে পারে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের সংশ্লিষ্টতা থাকা এই শিল্পাঞ্চলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের কত অংশ এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আসবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলার যে কৌশল জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো অনুসরণ করছে, তার অংশ হিসেবেও বাংলাদেশ গুরুত্ব পেতে পারে। ‘চীনের বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র’ গড়ে তোলার এ প্রবণতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চীনের পাশাপাশি অন্য দেশেও উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের বড় শ্রমশক্তি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা এ ক্ষেত্রে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জাপানের কাছে বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অবকাঠামো বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য চাওয়া অর্থায়ন এবং জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সম্ভাব্য ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ—দুটি পৃথক বিষয়। এগুলোকে একই বিনিয়োগ প্যাকেজ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

সূত্রঃ নিক্কেই এশিয়া

এমকে

আরো পড়ুন

চেয়ারম্যান-মেয়র হতে লাগবে স্নাতক ডিগ্রি, হবে না সরাসরি ভোট

মাত্র ৩৪২৬ ভোট পেলেন নাগরিক ঐক্যের মান্না

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, উপদেষ্টা পরিষদে উঠছে অধ্যাদেশ