নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের জাতীয় সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিজের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদান ও বীরত্বগাঁথা তুলে ধরতে গিয়ে দেওয়া তার বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, তার পরিবার মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছে। তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।”
সংসদ সদস্যের এই বক্তব্য সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বক্তব্যে উল্লিখিত তথ্যের সঙ্গে তার নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্যের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আব্দুল মুনতাকিম তার নির্বাচনী হলফনামায় জন্মতারিখ হিসেবে ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি উল্লেখ করেছেন। সে হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন।
এ অবস্থায় সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে ১৯৮১ সালে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো? বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া অনলাইন তথ্যভাণ্ডার উইকিপিডিয়াতেও আব্দুল মুনতাকিমের জন্মতারিখ ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে সংসদে দেওয়া বক্তব্য এবং প্রকাশ্য নথিতে থাকা তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি আছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্যে ‘বাবা শহীদ’ বলতে তিনি জৈবিক পিতাকে বুঝিয়েছেন নাকি পারিবারিক বা আত্মীয়তার অন্য কোনো সম্পর্কের ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্যগত নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ব্যাখ্যা এ বিতর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

