যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম তার সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা ঘোষণা করে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হলেও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে শাবানা মাহমুদকে। একই সঙ্গে সাবেক জ্বালানি ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের প্রথম মন্ত্রিসভা তার সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে।
মন্ত্রিসভার সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো জন হিলিকে চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার বা অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। তিনি র্যাচেল রিভসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে কিয়ার স্টারমারের সরকার থেকে পদত্যাগ করা জন হিলিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে বার্নহাম অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইভেট কুপারকে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জেমস মারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তবে ওয়ার্ক এন্ড পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে প্যাট ম্যাকফ্যাডেনকে তার বর্তমান দায়িত্বেই বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে লর্ড হারমারকে অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া র্যাচেল রিভস, ডেভিড ল্যামি এবং স্টিভ রিডসহ কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নতুন সরকারে স্থান পাননি। র্যাচেল রিভস লেবার পার্টির দায়িত্ব থেকেও সরে গেছেন এবং বার্নহামের প্রশাসনে তার কোনো ভূমিকা থাকছে না। একইভাবে ডেভিড ল্যামিকেও নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কনজারভেটিভ নেতা রবার্ট জেনরিক। তিনি বলেছেন, শাবানা মাহমুদকে সরিয়ে দেওয়া হলে অভিবাসন সংস্কার নীতিতে সরকারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তার দাবি, শাবানা মাহমুদ যে অভিবাসন সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন, তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন এবং নতুন সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলেই তিনি আশা করছেন।
বার্নহামের নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আগামী দিনগুলোতে তার সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই রদবদল যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

