জাপানি গবেষকরা এমন একটি উদ্ভাবনী ত্বক ইমপ্লান্ট তৈরি করেছেন যা ব্যবহারকারীর শরীরে অসুস্থতার কোনো সম্ভাবনা দেখা দিলে সবুজ আলো জ্বালাবে। এটি পরিধানযোগ্য স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইমপ্লান্টটি শরীরের অভ্যন্তরীণ বায়োমার্কার নিরীক্ষণ করে, যা প্রদাহ, চাপ বা রোগের সংকেত দেয়। কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হলে তা দৃশ্যমান সংকেত হিসেবে প্রকাশ পায়, ফলে ব্যবহারকারী অবিলম্বে সতর্ক হতে পারেন।
স্মার্টওয়াচের পরিবর্তে এই ত্বক গ্রাফ্ট ব্যবহারকারীর শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা ২৪/৭ সরাসরি দেখাতে সক্ষম। টোকিও সিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা RIKEN ও Canon Medical Systems-এর প্রকৌশলীদের সঙ্গে যৌথভাবে এই “লাইভিং সেন্সর ডিসপ্লে” তৈরি করেছেন এবং এটি ইদুঁরের উপর পরীক্ষামূলকভাবে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষক প্রফেসর হিরোয়াকি ফুজিতা বলেছেন, প্রচলিত পদ্ধতিগুলো আক্রমণাত্মক বা সময়ের একটি ক্ষুদ্র অংশের তথ্য দেয়। এই নতুন সিস্টেমটি জৈবভাবে একীভূত হওয়ায় এটি ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম এবং ব্যবহারকারীর জন্য সহজবোধ্য ব্যাখ্যা প্রদান করে।
সেন্সরটি জীবন্ত এপিডার্মাল স্টেম সেল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি ত্বকের প্রাকৃতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিকে থাকে। কোনো ব্যাটারির প্রয়োজন নেই। প্রফেসর ফুজিতা আরও বলেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেন্সরের কার্যকারিতা ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে বজায় থাকে কারণ স্টেম সেলগুলি এপিডার্মিসকে ক্রমাগত পুনর্গঠন করে।
গবেষকরা মনে করেন, এই প্রযুক্তি কেবল মানব স্বাস্থ্যসেবায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রাণী গবেষণা এবং পশুচিকিৎসাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যেখানে দৃশ্যমান স্বাস্থ্য সংকেত দূর্বল প্রাণীদের অসুস্থতা দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

