TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বিদেশি অর্থে রিফর্ম ইউকের রাজনৈতিক ‘খেলা’! গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়লেন নাইজেল ফারাজ

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজকে ঘিরে একটি গোপন ক্যামেরার তদন্ত। চ্যানেল ফোর নিউজের যাচাই করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমন একটি পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে একটি মার্কিন কোম্পানিকে ব্যবহার করে রিফর্ম ইউকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি রাজনৈতিক জরিপের অর্থ পরিশোধ করা হয়। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী অর্থায়ন ও বিদেশি অনুদানসংক্রান্ত আইন।

এক বছর ধরে পরিচালিত এই অনুসন্ধানটি করেছে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান ভারবেটিম। তাদের প্রতিবেদনে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা কথোপকথন ও বৈঠকের ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। চ্যানেল ফোর নিউজ জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধানের তথ্য ও ফুটেজ বিস্তারিতভাবে যাচাই করেছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, রিফর্ম ইউকের নীতি বিভাগের প্রধান জেমস অর এবং ফারাজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ড্যান জুকস একজন গোপন প্রতিবেদকের সঙ্গে এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন, যাতে তিনটি রাজনৈতিক জরিপের অর্থ একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া যায়। ওই প্রতিবেদককে একজন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ধনী ব্যক্তির ছেলে হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছিল। অর ও জুকস ধারণা করেছিলেন, ওই মার্কিন কোম্পানিটি প্রতিবেদকের আমেরিকান বাবার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপগুলোর মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ পাউন্ড। জরিপগুলো পরিচালনা করে ব্রিটিশ পোলিং প্রতিষ্ঠান JL Partners। পরবর্তী সময়ে এসব জরিপ জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তার পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে জুলাই মাসে ফারাজের ক্ল্যাকটন নির্বাচনী এলাকায়। গোপন প্রতিবেদকদের সঙ্গে বৈঠকে ফারাজ ওই জরিপগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুসন্ধানে প্রকাশিত ফুটেজ অনুযায়ী, তিনি বলেন—“It worked. Boom!” অর্থাৎ, “কাজ হয়ে গেছে, বুম!”

তদন্তকারীদের অভিযোগ, সমস্যাটি শুধু জরিপের অর্থ কে দিয়েছে তা নিয়ে নয়; বরং অর্থের প্রকৃত উৎস ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা গোপন রাখার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী অর্থায়নবিধি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। ব্রিটিশ নির্বাচনী আইনে রাজনৈতিক দলকে দেওয়া নির্দিষ্ট অনুদান অবশ্যই অনুমোদিত উৎস থেকে আসতে হয়। বিদেশি উৎস থেকে রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও গুরুতর রূপ নেয়। রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পুলিশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।

তবে রিফর্ম ইউকে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির বক্তব্য, তদন্তটি বিভ্রান্তিকর এবং বিদেশি অর্থ বা সুবিধা সরাসরি দলের কাছে পৌঁছায়নি। দলটি আরও দাবি করেছে, দলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার বাইরে থেকে পরিচালিত কোনো জরিপের ক্ষেত্রে সেটিকে দলীয় অনুদান হিসেবে ঘোষণা করার প্রয়োজন ছিল না।

জেমস অরও কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকে জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং তাদের দাতাদের যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন রিফর্ম ইউকে এবং নাইজেল ফারাজের রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে আগেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। দলটির বড় অঙ্কের অনুদান এবং বিদেশে অবস্থানকারী ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ নিয়েও এর আগে তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। ফলে নতুন এই অভিযোগ রিফর্ম ইউকের অর্থায়ন ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে।

সূত্রঃ চ্যানেল ফোর নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হারের রেট ৪.৭৫%-এ স্থির রাখার সিদ্ধান্ত

ডোভারে দীর্ঘ জ্যামে যাত্রীদের বেহাল দশা

অনলাইন ডেস্ক

বিক্রির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় পাউন্ডল্যান্ডঃ অক্টোবরেই বদলাতে পারে মালিকানা