TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বিরোধী দলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ছাঁটাই প্রস্তাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সতর্কবার্তা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট মাত্র এক টাকায় নামিয়ে আনার বিরোধী দলের ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, এমন প্রস্তাব কার্যকর হলে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস পরিচালনা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি দেশের আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এমনকি জাতিসংঘের বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করা সম্ভব না হলে সদস্যপদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বুধবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রতীকীভাবে এক টাকায় নামিয়ে আনার অর্থ হবে দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম কার্যত অচল করে দেওয়া। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস পরিচালনা করা সম্ভব হবে না, প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের আর্থিক দায়-দায়িত্ব পালন করাও অসম্ভব হয়ে উঠবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতি বছর নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করতে হয়। সেই চাঁদা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দেশের সদস্যপদ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও মর্যাদার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় বাবদ ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ২৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংসদে বিরোধী দলের ছাঁটাই প্রস্তাবকে রাজনৈতিক প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনৈতিক কার্যক্রমের বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ, প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখতে পর্যাপ্ত বাজেট অপরিহার্য।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করা সদস্যরাষ্ট্রগুলোর একটি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা। দীর্ঘ সময় চাঁদা বকেয়া থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সদস্যরাষ্ট্রের ভোটাধিকারসহ কিছু অধিকার সীমিত হতে পারে। পাশাপাশি শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের গুরুত্ব আরও বেশি করে সামনে এসেছে।

সংসদে বিরোধী দলের ছাঁটাই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত নাকচ হয়ে যায় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল বাজেট অনুমোদন লাভ করে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

১২০ টাকায় গরুর মাংস আমদানির কথা ভিত্তিহীনঃ প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

দেশে ফিরলেন এভারেস্টজয়ী বাবর

মানবাধিকার লঙ্ঘন: প্রয়োজনে ম্যান্ডেট দিয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত জাতিসংঘ