প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ভাল্টার স্টেইনমেয়ার। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যেন ‘লুটের আড্ডায়’ পরিণত না হয়, নীতিহীনরা যেন ইচ্ছেমতো দখলদারিত্ব না চালাতে পারে–সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
যদিও জার্মান প্রেসিডেন্ট সরাসরি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার কথা বলেননি, তবে তার ইঙ্গিত সেদিকেই ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভেনেজুয়েলায় হামলা ও মাদুরোকে আটকের পর ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে এই প্রথম কিছুটা প্রচ্ছন্নভাবে হলেও ট্রাম্পের দিকে সমালোচনার আঙুল তুললেন স্টেইনমেয়ার। সাবেক এই জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক গণতন্ত্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি আক্রমণের মুখে পড়েছে।
যদিও জার্মান প্রেসিডেন্টের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক, তবুও তার বক্তব্যের একটি নিযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে নারীকে গুলি করে হত্যার্দিষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। জার্মানির অন্য রাজনীতিকদের তুলনায় মত প্রকাশে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেন তিনি।
রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনকে যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে স্টেইনমেয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ আরেকটি ঐতিহাসিক ভাঙনের প্রতিনিধিত্ব করছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে এক সিম্পোজিয়ামে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এরপর রয়েছে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের ভাঙন, যে দেশটি এই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে বিশ্ব লুটের আড্ডায় পরিণত হবে, নীতিহীনরা যা খুশি দখল করবে, একটি অঞ্চল কিংবা পুরো দেশ কয়েকটি বৃহৎ শক্তির সম্পত্তির মতো বিবেচিত হবে, এমন বিশ্বব্যবস্থা আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’ এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোকে গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা রক্ষা করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট।
সূত্রঃ রয়টার্স
এম.কে

