16.3 C
London
July 13, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে ভারত

পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘একঘরে’ করার ভারতের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান এখন কতটা কার্যকর—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় অবস্থান দখল করেছে।

প্রতিবেদনে ২০১৬ সালের একটি জনসভার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চে ‘একঘরে’ করবে ভারত। তবে প্রায় এক দশক পর পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, পাকিস্তান এখন চীনসহ একাধিক শক্তিশালী দেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দেশটির সম্পর্ক আবারও উন্নতির দিকে গেছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ চুক্তিও করেছে।

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা থাকলেও বাস্তবে দেশটি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ভারতের পাকিস্তানবিরোধী কৌশল ‘অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ’ হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তান নিজের অবস্থান শক্ত করতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত ও তথ্যযুদ্ধেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্যভাবে সফল হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। তবে তা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি।

এদিকে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক অগ্রগতির পেছনে চীনের সঙ্গে গভীর প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে ‘জঙ্গিবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না’ নীতি অনুসরণ করে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রেখেছে। তবে এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কৌশলগত অবস্থান শক্ত করছে। অন্যদিকে ভারত তার কঠোর অবস্থানের কারণে কিছু ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেইঃ ট্রাম্প

এবার মালদ্বীপগামী বিমানের সকল ফ্লাইট বাতিল করল ভারত!

পদত্যাগ না করতে অনড় মমতাঃ পশ্চিমবঙ্গে কি তবে রাষ্ট্রপতি শাসন