16.7 C
London
October 9, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানা খুলতে যুক্তরাজ্য-চীনের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের একটি পোশাক কারখানা পুনরায় চালু করতে ২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পাওয়া গেলে গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত প্রিফিক্স ফ্যাশনস লিমিটেড আগামী বছরের এপ্রিলেই উৎপাদনে ফিরতে পারে।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগে অর্থায়ন করবে যুক্তরাজ্যের চার্টার এইচসিপি লিমিটেড ও চীনের বেস্টিং লিমিটেড। পুরো উদ্যোগে সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে জাপানি-বাংলাদেশি যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান রিভাইভাল গ্লোবাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য লিজ বা চুক্তিতে যুক্ত হবে।

কারখানায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানি করে অর্জিত অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। সেখান থেকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণের কিস্তি কেটে নেবে। এতে ঋণ পরিশোধের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেক্সিমকো গ্রুপের সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে না। উদ্যোক্তাদের আশা, এ ব্যবস্থায় ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

উদ্যোগটির অগ্রগতি নিয়ে আগামী ১১ অক্টোবর বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানকারী সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বেক্সিমকো ও রিভাইভাল গ্লোবালের কর্মকর্তাদের বৈঠক করার কথা রয়েছে। এরপর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে কারখানাটি চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রিফিক্স ফ্যাশনস চালু হলে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কারখানাটিতে উৎপাদিত পোশাকের প্রধান অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ হবে জ্যাকেট। উৎপাদন শুরুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে কারখানাটি থেকে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি সম্ভব হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

প্রিফিক্স ফ্যাশনসের উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বাকি ১৫টি বন্ধ ইউনিটও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে চাকরি হারানো ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিকের পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের কারখানাগুলো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার মুখে পড়ে। পরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের মার্চে অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করে। এর আগে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে সরকার ৫২৬ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল।

বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান যুক্ত। তিনি বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। এদিকে, বেক্সিমকো গ্রুপের মোট ব্যাংকঋণের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজীপুরের বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ৩২টি কারখানার বিপরীতে ব্যাংকঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওনা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের, প্রায় ২৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। এই বিপুল ঋণের চাপের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রথমে একটি কারখানা চালু করে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রিফিক্স ফ্যাশনসের উদ্যোগ সফল হলে একই ধরনের চুক্তিভিত্তিক কাঠামো ব্যবহার করে পার্কের অন্যান্য বন্ধ ইউনিট চালুর পথও তৈরি হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, উৎপাদন পুনরায় শুরু এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা কার্যকর করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সূত্রঃ ডেইলি সান

এমকে

আরো পড়ুন

পেঁয়াজু দিয়ে মাস্টারশেফ ইউকেতে বাংলাদেশের সাবিনার ঝড়, প্রথম হিট জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে

৪০০ কোটি টাকার ফ্যাক্টরি হাতিয়ে নিল উপদেষ্টার পরিবার

১৫ শতাংশ কমিয়ে বাংলাদেশি পণ্যে ২০% শুল্ক নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের