26.8 C
London
August 17, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ব্রিকস সম্মেলনের আগে ভারত-চীন সীমান্তে নতুন বিতর্কঃ চাপের মুখে মোদি সরকার

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে চীনা বাহিনী সীমান্তের বিতর্কিত এলাকায় ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টহল পয়েন্টে যেতে বাধা দিচ্ছে—এমন অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগটি এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক অরুণাচলভিত্তিক একটি আঞ্চলিক দলের তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ভারতীয় সেনাবাহিনী অবশ্য এ দাবিকে ভিত্তিহীন বললেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশের পিপলস পার্টি অব অরুণাচল চার সদস্যের একটি তথ্য-অনুসন্ধানী দল আপার সুবানসিরি জেলার দুর্গম তাকসিং এলাকায় পাঠিয়ে অনুসন্ধান চালায়। দলটির দাবি, সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই সময় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে সীমান্তে সংঘর্ষের পর ভারতীয় সেনারা শেরা-৫ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ টহল পয়েন্ট ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই ওই এলাকায় চীনা উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন।

পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের ভাইস প্রেসিডেন্ট কালিং জেরাং বলেছেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশের তথ্য মাঠপর্যায়ে পাওয়া গেছে এবং এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে বিস্তৃত হয়েছে। তার অভিযোগ, নয়াদিল্লি ও অরুণাচলের রাজ্য সরকার সীমান্তবর্তী মানুষের উদ্বেগকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।

গত মাসে নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি উপজাতীয় সংগঠনও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করে, চীনের অনুপ্রবেশ আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে এবং সীমান্তবর্তী জমি দখলের চেষ্টা চলছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভূখণ্ড দখলের অভিযোগকে “ভুল ও ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ না করে জানিয়েছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সীমান্ত পরিস্থিতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অভিযোগ নিশ্চিত বা সরাসরি অস্বীকার কোনোটিই করেনি। তাদের দাবি, বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি “সাধারণভাবে স্থিতিশীল” এবং গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সীমান্তবিষয়ক বৈঠকে কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশই বিতর্কিত। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশকে চীন ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে, অন্যদিকে ভারত এটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

দুই দেশ এখনো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অবস্থান নিয়েও একমত হতে পারেনি। ফলে উভয় পক্ষের টহল দল প্রায়ই একই এলাকাকে নিজেদের দাবি করে সেখানে প্রবেশ করে, যা উত্তেজনার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। সিকিমের নাকু লা, উত্তরাখণ্ডের বারাহোতি, হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা এবং ভুটান সীমান্তবর্তী ডোকলাম মালভূমিতেও বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দেখা গেছে।

এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির চাপের মধ্যে ভারত ও চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

সীমান্তে উত্তেজনা থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্য দ্রুত বেড়েছে। বেইজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত-চীন পণ্য বাণিজ্য প্রায় ১৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই বাণিজ্যের বড় অংশই চীন থেকে ভারতের আমদানি।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও সীমান্ত বিরোধ এখনো দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত সংকট। তাদের মতে, প্রকৃত স্বাভাবিক সম্পর্কের বদলে ভারত ও চীন এখনো নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই অবস্থান করছে।

সূত্রঃ স্টার নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নোটিশ জারি পাকিস্তানেরঃ এএনআই’র প্রতিবেদন

থেমে যেতে পারে আটলান্টিকের ‘স্রোত’ , বিপর্যয়ে পড়বে বিশ্ব

মোদির শাসনামলে উন্নত জীবনের আশা হারিয়ে ফেলছেন ভারতীয়রাঃ জরিপ