TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ কারাগারে শ্বেতাঙ্গ বন্দিদের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগঃ কঠোর নজরদারির আহ্বান

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে শ্বেতাঙ্গ বন্দিদের ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও সাবেক কারা কর্মকর্তার মন্তব্যের পর কারাগারের ভেতরে ধর্মীয় প্রভাব, গ্যাং-সংস্কৃতি এবং সম্ভাব্য জবরদস্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সাবেক কারা গভর্নর ভ্যানেসা ফ্রেকের দাবি, কারাগারে বিভিন্ন ধরনের গ্যাংয়ের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। এর মধ্যে ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী, নির্দিষ্ট এলাকার পরিচয়ভিত্তিক গ্যাং, ফুটবল-সমর্থক গোষ্ঠী এবং শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী গোষ্ঠীও রয়েছে। তবে তার মতে, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রভাব ও গ্যাং কার্যক্রম নিয়ে বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে মুসলিম বন্দিদের প্রায় পাঁচজনের একজন শ্বেতাঙ্গ। একই সময়ে কারাগারে মুসলিম বন্দিদের সামগ্রিক সংখ্যাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইসলাম গ্রহণের ঘটনাকে সরাসরি জবরদস্তির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারাগারে ধর্মান্তর নিয়ে আগের গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বন্দি ধর্মীয় বিশ্বাস, আত্মপরিচয়, নৈতিক পরিবর্তন, মানসিক সহায়তা ও কারাজীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ইসলাম গ্রহণ করেন। একটি গবেষণায় এমনও দেখা যায় যে ইসলাম গ্রহণ কিছু বন্দিকে অপরাধমূলক পরিচয় থেকে বেরিয়ে নতুন নৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে, কারাগারে ধর্মীয় পরিচয়কে নিরাপত্তা, গোষ্ঠীগত আনুগত্য বা প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও অতীতে উঠেছে। এ ধরনের অভিযোগের কারণে ধর্মান্তর স্বেচ্ছায় হয়েছে, নাকি ভয়ভীতি কিংবা চাপের মাধ্যমে হয়েছে—তা আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে।

ভ্যানেসা ফ্রেক বলেন, ধর্মীয় জবরদস্তি ও গ্যাং-ভিত্তিক ভয়ভীতি মোকাবিলায় কারা কর্তৃপক্ষের শক্তিশালী গোয়েন্দা সক্ষমতা প্রয়োজন। তার মতে, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী নিয়োগ, কারা ব্যবস্থাপনায় সংস্কার এবং গ্যাংয়ের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের প্রভাব ভেঙে দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কারাগারের বিভিন্ন অংশে বন্দিদের পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে, যাতে কোনো একটি গোষ্ঠী একটি নির্দিষ্ট অংশে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। একই সঙ্গে কারা কর্মকর্তাদের দৃশ্যমান কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

কারা ব্যবস্থায় অভিজ্ঞ কর্মীর ঘাটতিও এ ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তার মতে, গ্যাং-সংশ্লিষ্ট বিশেষ শব্দ বা কথাবার্তা শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যেকোনো নজরদারি অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন হতে হবে।

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বন্দিকে সন্দেহের চোখে দেখা হলে উল্টো বৈষম্য ও ধর্মবিদ্বেষের অভিযোগ তৈরি হতে পারে। ফ্রেক নিজেও স্বীকার করেছেন, কারা কর্মকর্তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করলে তাদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তার মতে, ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তি হতে হবে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও আচরণগত প্রমাণ।

যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কারাগারে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, গ্যাং কার্যক্রম বা ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে জবরদস্তি তারা সহ্য করে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হুমকিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কারাগারে ইসলাম গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। আগের গবেষণাগুলোতে যেমন জবরদস্তি ও গ্যাং-প্রভাবের অভিযোগ উঠে এসেছে, তেমনি স্বেচ্ছায় ধর্ম গ্রহণের ইতিবাচক প্রভাবের কথাও গবেষণায় পাওয়া গেছে। ফলে বর্তমান বিতর্কে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর, ধর্মীয় অনুশীলন এবং জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তর—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের রহস্য কাটল না, প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হুমায়ুন কবিরের ‘কার এত জ্বালা?’

যুক্তরাজ্যে বাড়ি নিয়ে বাড়িওয়ালাদের দুর্বৃত্তায়ন

৭ বিলিয়ন পাউন্ডের গোপন অভিযানে যৌন অপরাধীর উপস্থিতি? ফারাজের দাবি ঘিরে উত্তাল ব্রিটেন