18.4 C
London
August 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ব্রিটিশ ড্রোন কারখানায় রুশ হামলার হুমকিঃ বাড়ছে উত্তেজনা

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ড্রোন উৎপাদন স্থাপনায় সরাসরি হামলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপক ভ্লাদিমির সলোভিয়ভ। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ ড্রোন সরবরাহ এবং এসব ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের দাবি জানান।

সলোভিয়ভ তার সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে প্রশ্ন তোলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর জন্য ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহার করার পরও মস্কো কেন এখনো এসব অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করার পদক্ষেপ নেয়নি। তার বক্তব্যে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পকে সরাসরি সম্ভাব্য রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে যুক্তরাজ্যে একটি মাত্র বিশাল ড্রোন কারখানা নেই। দেশটির ড্রোন উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কার্যক্রম বিভিন্ন প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একাধিক স্থাপনায় ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে একাধিক স্থাপনার নাম সামনে আসতে পারে।

ইংল্যান্ডের সুইন্ডন বর্তমানে ব্রিটিশ ড্রোন শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শহরটিতে একাধিক ড্রোন কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সেখানে ইউরোপের বৃহৎ ড্রোন পরীক্ষা ও উন্নয়নকেন্দ্রও গড়ে উঠেছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের ড্রোন প্রযুক্তি পরীক্ষা ও উন্নয়ন করা হচ্ছে।

সুইন্ডনের পাশাপাশি দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় ড্রোনের পরীক্ষা ও সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের আশপাশেও কৌশলগত ও লজিস্টিক ড্রোন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে ব্রিটেনকে দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়াতে পশ্চিমা অস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার মস্কোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

রুশ দূতাবাসও এর আগে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেছে, লন্ডনের কর্মকাণ্ডের অনিবার্য পরিণতি রয়েছে এবং সেসব কর্মকাণ্ডের জন্য ব্রিটেনকে জবাব দিতে হবে। মস্কোর এই অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা রাশিয়ার কাছে ক্রমেই বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।

তবে রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের কোনো উপস্থাপকের বক্তব্যকে সরাসরি রুশ সরকারের সামরিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ ড্রোন উৎপাদন স্থাপনায় হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক নির্দেশ বা সুনির্দিষ্ট হামলার ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

তবু পুতিনঘনিষ্ঠ প্রচারমাধ্যমে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলার আহ্বান নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এমনিতেই তীব্র পর্যায়ে রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্রীয় রুশ প্রচারমাধ্যমের এই হুমকি কি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, নাশকতা কিংবা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের মতো কোনো ঘটনা ঘটবে।

লন্ডনের জন্যও বিষয়টি স্পর্শকাতর। ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটদের খুঁজতে যাওয়া মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মাত্র ৫% প্রতিরক্ষা শক্তি ব্যবহার করেছে ইরানঃ আইআরজিসি

রোবটের চাকুরী গেলো গুগলে

নিউজ ডেস্ক