TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেতে কঠোর শর্তঃ ২০২৬ সালের নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের বেশ কয়েকটি কঠোর আইনি শর্ত পূরণ করতে হয়। বৈধভাবে নির্ধারিত সময় যুক্তরাজ্যে বসবাস, স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা অর্জন, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, লাইফ ইন দ্য ইউকে পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়া এবং ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা সুনামের শর্ত পূরণসহ একাধিক বিষয় যাচাই করে হোম অফিস নাগরিকত্বের আবেদন বিবেচনা করে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৮২ জন বিদেশি নাগরিক ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। বর্তমানে আবেদন অনলাইনে করতে হয়। আবেদন ফি ১ হাজার ৭০৯ পাউন্ড, এর সঙ্গে নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত ১৩০ পাউন্ড পরিশোধ করতে হয়। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কেবল অনুষ্ঠানের ফি ফেরত দেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী, অধিকাংশ আবেদনকারীকে প্রথমে কমপক্ষে পাঁচ বছর বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হবে এবং ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) বা সমমানের স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা অর্জন করতে হবে। যারা ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী নন, তাদের সাধারণত আইএলআর পাওয়ার পর আরও ১২ মাস অপেক্ষা করে নাগরিকত্বের আবেদন করতে হয়। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদন করার যোগ্য হতে প্রায় ছয় বছর সময় লাগে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে আইএলআর অর্জনের পর অপেক্ষার বাধ্যবাধকতা না থাকায় তারা স্থায়ী মর্যাদা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন করতে পারেন। বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগে।

আবেদনকারীর যুক্তরাজ্যে বসবাসের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে আবেদনপূর্ব তিন বছরে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন, আর অন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবেদনপূর্ব পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ৪৫০ দিন যুক্তরাজ্যের বাইরে থাকার অনুমতি রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই শেষ ১২ মাসে ৯০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকা সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।

নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীকে ইংরেজি, ওয়েলশ অথবা স্কটিশ গেইলিক ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে এবং লাইফ ইন দ্য ইউকে টেস্ট উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে বয়স বা শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে হোম অফিস এসব শর্ত শিথিল করতে পারে।

আবেদন মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘গুড ক্যারেক্টার’ পরীক্ষা। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অপরাধের রেকর্ড, আর্থিক দায়বদ্ধতা, কর পরিশোধের ইতিহাস, অভিবাসন আইন মেনে চলা এবং সামগ্রিক আচরণ মূল্যায়ন করা হয়। গুরুতর অপরাধ, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা যৌন অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে আবেদন সাধারণত প্রত্যাখ্যান করা হয়। এমনকি কম গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি, পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যারা অতীতে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন অথবা বৈধ প্রবেশ অনুমতি ছাড়া বিপজ্জনক পথে দেশটিতে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্বের আবেদন সাধারণত প্রত্যাখ্যান করা হবে। তবে মানবপাচারের শিকার হওয়া বা আবেদনকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে হোম অফিস বিশেষ বিবেচনা করতে পারে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এছাড়া ৬ জুলাই ২০২৬ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ পাউন্ড ফি দিয়ে প্রায়োরিটি সার্ভিস গ্রহণের সুযোগ চালু হয়েছে। এ সেবায় বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেওয়ার পর ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও জটিল আবেদন নিষ্পত্তিতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আয়োজিত নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এরপরই তাকে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের সনদ প্রদান করা হয়। তবে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সরাসরি আপিলের সুযোগ নেই। আবেদনকারী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী আইনি প্রতিকার হিসেবে জুডিশিয়াল রিভিউয়ের পথ খোলা থাকে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

ট্রায়াল হিসেবে কয়েক হাজার রোগীকে প্রথমবার ক্যান্সারের টিকা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের প্রাক্তন বস(কুটি মিয়া) ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে লিকুইডেশনে চলে গেছে!

নিউজ ডেস্ক

অভিভাবকদের ঘরে বসে কাজ করার ফলে স্কুলে উপস্থিতি কমছেঃ অফস্টেড প্রধান