8.5 C
London
March 26, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরী ‘খেলনা’—মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ব্রিটিশ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশেষ করে তাদের বিমানবাহী রণতরীকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন।

 

মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির দুটি প্রধান যুদ্ধজাহাজ—এইচএমএস কুইন এলিজাবেথ এবং এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস—কে “খেলনা” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর তুলনায় এগুলো মানসম্মত নয় এবং তার সামরিক অভিযানে এসবের কোনো প্রয়োজন নেই।

ব্রিটেনের এই দুটি জাহাজের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯২০ ফুট এবং ওজন ৬৫ হাজার টন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জেরাল্ড আর ফোর্ড শ্রেণির বিমানবাহী রণতরীগুলো প্রায় ১ লাখ টন ওজন এবং ১,১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের হওয়ায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও ব্রিটেন এখন পর্যন্ত তাদের কোনো বিমানবাহী রণতরী সেখানে মোতায়েন করেনি। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে শুরুতেই মিত্রদের অংশ নেওয়া উচিত ছিল, শেষে নয়।

একই সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়াটা ছিল “হতাশাজনক” সিদ্ধান্ত।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বি-টু বোমারু বিমান সেখানে নামানোর অনুমতি না পাওয়ায় তাদের দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার পথ উড়ে যেতে হয়েছে, যা সামরিক পরিকল্পনায় বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।

তবে পরবর্তীতে ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি তৈরি হলে ব্রিটেন সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযানের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ স্ট্রেইট অব হরমুজে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণে ব্রিটেনের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক জোট কাজ করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ অংশ নিয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের টাইপ ৪৫ শ্রেণির এই জাহাজটি সাইপ্রাসকে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে।

তবে জাহাজটি মোতায়েনে বিলম্ব হওয়ায় ব্রিটেনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করছে এবং ন্যাটো জোটের ভেতরেও সমন্বয় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

সাপ আর ভারতীয় একসঙ্গে পেলে আগে ভারতীয়কে মারোঃ এপস্টেইন নথি

অভিবাসী পাচার: ফ্রান্সে ব্রিটিশ নাগরিকের সাজা

মক্কা-মদিনায় রেড এলার্ট, এ যেন কেয়ামতের আলামত!