TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ বেকার ভাতা নিয়ে দেশে ফেরার পরামর্শ পোল্যান্ডের, যুক্তরাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের দেশে ফিরতে উৎসাহিত করতে নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে পোল্যান্ড সরকার। সরকারি তথ্যভিত্তিক একটি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যারা যুক্তরাজ্য ছেড়ে পোল্যান্ডে ফিরতে চান এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন, তারা যেন দেশ ছাড়ার আগে যুক্তরাজ্যের বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেন। এই নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনীতিকরা অভিযোগ করেছেন, ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থ থেকে সুবিধা নেওয়ার পথ দেখানো হচ্ছে।

পোল্যান্ড সরকারের পরিচালিত “পোভরোতি” নামের একটি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের বেকার ভাতা পোল্যান্ডের সমমানের ভাতার তুলনায় বেশি। তাই যারা পোল্যান্ডে ফিরে যেতে চান, তাদের দেশ ছাড়ার আগেই আবেদন করা উচিত। কারণ পোল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পর নতুন করে এই ভাতা পাওয়ার আবেদন শুরু করা যাবে না।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাহার চুক্তির আওতায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের আগে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বেকার ভাতার সুবিধা নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ তারা পোল্যান্ডে অবস্থান করেও চাকরি খোঁজার সময় এই আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।

ব্রেক্সিটের পর হাজার হাজার পোলিশ নাগরিক যুক্তরাজ্য ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নত কর্মসংস্থান, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ এবং নিরাপদ জীবনযাত্রাকে সামনে রেখে সরকার আরও বেশি প্রবাসীকে দেশে ফেরাতে বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে।

২০২২ সালে পোল্যান্ড সরকার দেশে ফিরে আসা নাগরিকদের জন্য বিশেষ কর-ছাড় কর্মসূচি চালু করে। এর আওতায় চার বছর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর-ছাড় দেওয়া হয়। গত বছর ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

তবে পোল্যান্ডের এই নির্দেশনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের বিরোধী রাজনীতিকরা। ছায়া কর্মসংস্থান ও পেনশনবিষয়ক মুখপাত্র হেলেন হোয়াটলি বলেন, অন্য দেশ যখন নিজেদের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যের বেনিফিট ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেয়, তখন তা প্রমাণ করে ব্রিটেনের কল্যাণব্যবস্থা কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, এতে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিকভাবে হাস্যকর অবস্থায় পৌঁছেছে।

সংস্কারপন্থী দলের উপনেতা রিচার্ড টাইসও এ ঘটনাকে ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তাদের দল ক্ষমতায় এলে এ ধরনের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার বলেছে, এটি আগের সরকারের করা পারস্পরিক প্রত্যাহার চুক্তির অংশ এবং ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নয়। সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাইরে বসবাস করে এই বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। সরকারি হিসাবে এমন সুবিধাভোগীর সংখ্যা মাত্র ১০ জন।

তিনি আরও বলেন, নতুন অভিবাসন নীতির মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে নতুন আগতরা দেশের অর্থনীতিতে যতটা সম্ভব বেশি অবদান রাখেন।

পোল্যান্ড সরকারও সমালোচনার জবাবে বলেছে, মানুষ কেবল বেকার ভাতার জন্য দেশে ফিরছে না। বরং আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ, টানা ২৮ বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ এবং উচ্চমাত্রার জননিরাপত্তাই দেশে ফেরার প্রধান কারণ।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের এই বেকার ভাতা কেবল তাঁদের জন্য প্রযোজ্য, যারা সেখানে বৈধভাবে কাজ করার সময় জাতীয় বিমা তহবিলে প্রয়োজনীয় অবদান রেখেছেন। বয়সভেদে প্রতি দুই সপ্তাহে নির্ধারিত হারে এই ভাতা প্রদান করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী চুক্তির আওতায় এই সুবিধা পুরোপুরি বৈধ হলেও, এটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন, কল্যাণভাতা এবং সরকারি ব্যয় নিয়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ২৭৫ সংগঠনের যৌথ আবেদনঃ শরণার্থীদের অধিকার সুরক্ষার দাবি

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ দ্রুত বাড়ছে, এখনই পদক্ষেপ জরুরিঃ আফজাল খান এমপি

যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল ‍রিভস