যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাজনিত কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগায় চারটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি (ডিভিএলএ)। নতুন টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে আবেদনকারীদের অবহিত করা, নতুন কেসওয়ার্ক ব্যবস্থা চালু, ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিস পোর্টাল সম্প্রসারণ এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার চেষ্টা চলছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানিয়েছে, চিকিৎসাজনিত কারণে করা ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন নিষ্পত্তি করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড়ে ৬২ দশমিক ৩ কর্মদিবস লাগছে। ক্যালেন্ডার হিসাবে এই সময় প্রায় ৮৬ দিন, অর্থাৎ প্রায় তিন মাস। ফলে লাইসেন্সের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে কিছু চালক সাময়িকভাবে গাড়ি চালানোর অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
চিকিৎসাজনিত কারণে যেসব চালককে প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই বিলম্ব কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নর্থ কর্নওয়ালের সংসদ সদস্য বেন ম্যাগুয়ার। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় সম্পর্কে জানানো এবং গাড়ি চালানোর অধিকার যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
বুধবার পার্লামেন্টে দেওয়া জবাবে পরিবহন বিভাগের সংসদীয় আন্ডার-সেক্রেটারি জাস্টিন ম্যাডার্স জানান, আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ডিভিএলএ ইতিমধ্যে নতুন কেসওয়ার্ক ব্যবস্থা চালু করেছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৬০০ ধরনের চিকিৎসাজনিত অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত আবেদন পরিচালনার জন্য নতুন ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিস পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করতে টেক্সট মেসেজ পাঠানোর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। যারা এ ধরনের বার্তা পেতে সম্মতি দিয়েছেন, তাদের আবেদনসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হলে চালক বা আবেদনকারীকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসক কিংবা অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে ডিভিএলএ।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিকিৎসাজনিত ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের সংখ্যা এবং জটিলতা—দুটিই বাড়ছে। কোনো আবেদন নিষ্পত্তি করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট রোগের ধরন এবং চিকিৎসক বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার ওপর। অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমানো এবং পরিষেবার মান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ডিভিএলএর নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত ৭০ বছরের কম বয়সী চালকদের প্রতি ১০ বছর পর ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর প্রতি তিন বছর অন্তর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। তবে চিকিৎসাজনিত কারণে স্বল্পমেয়াদি লাইসেন্স দেওয়া হলে সেটির মেয়াদ এক, দুই, তিন অথবা পাঁচ বছর হতে পারে।
চিকিৎসাজনিত কারণে নবায়নের ক্ষেত্রে স্মরণবার্তা পাঠানোর সময়ও আলাদা। পেশাদার চালকদের লাইসেন্স এবং ১০ বছর মেয়াদি ফটোকাড লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৫৬ দিন আগে ডিভিএলএ স্মরণবার্তা পাঠায়। ৭০ বছর বয়সে লাইসেন্স নবায়নকারী এবং স্বল্পমেয়াদি মেডিকেল লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে এই বার্তা পাঠানো হয় ৯০ দিন আগে।
যুক্তরাজ্যে ৫ কোটিরও বেশি মানুষের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখের বেশি চালকের চিকিৎসাজনিত অবস্থা ডিভিএলএর নথিতে রয়েছে বলে সাম্প্রতিক তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসাজনিত কোনো সমস্যা থাকলে চালকদের তা ডিভিএলএকে জানাতে হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাজনিত অবস্থার প্রভাব ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করে সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নেয় চালক লাইসেন্স রাখতে পারবেন কি না, কিংবা তাকে স্বল্পমেয়াদি লাইসেন্স দেওয়া প্রয়োজন কি না। তবে চিকিৎসাজনিত সমস্যা থাকলেই যে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হবে, এমন নয়।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

