ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের বিদেশ থেকে ব্রিটেনে ফেরার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে বিমানবন্দরগুলোতে নতুন ‘যোগাযোগহীন সীমান্ত’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় ই-গেট ব্যবহারের সময় ব্রিটিশ নাগরিকদের হাতে থাকা পাসপোর্ট স্ক্যান করার প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে উন্নত মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীর পরিচয় যাচাই করা হবে।
মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বিমানবন্দরের ই-গেটে যাত্রীর মুখ স্ক্যান করে সেটি আগে থেকে সংরক্ষিত পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এর ফলে বিদেশ থেকে দীর্ঘ যাত্রা শেষে ব্রিটেনে ফেরার সময় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষার সময় কমতে পারে।
বর্ডার ফোর্সের মহাপরিচালক ফিল ডগলাস বলেছেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত আরও নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরে যাত্রী পারাপার দ্রুত হবে। তার ভাষায়, এটি আরও দ্রুত, আধুনিক ও নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থা তৈরি করবে।
নতুন ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বার্মিংহাম ও ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরে এটি চালু করা হচ্ছে। আগামী বছরের শুরু নাগাদ ই-গেট থাকা অন্যান্য বড় বিমানবন্দরেও পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আওতায় বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, কার্ডিফ, ইস্ট মিডল্যান্ডস, এডিনবরো, গ্যাটউইক, গ্লাসগো, হিথরো, লন্ডন সিটি, লুটন, ম্যানচেস্টার, নিউক্যাসল ও স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় বিমান সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে পৌঁছানোর দিন ব্রিটিশ যাত্রীদের পাসপোর্টের ছবি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। এরপর সেই তথ্য ই-গেটের ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে।
ফিল ডগলাস জানান, আগে কোনো যাত্রীর পরিচয় যাচাই করতে বিপুল সংখ্যক পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন হতে পারত। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট দিনে আসা যাত্রীদের তথ্য আগে থেকেই জানা থাকায় যাচাইয়ের পরিধি অনেক কমে যাবে।
নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সারি প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোনো যাত্রীর মুখ শনাক্ত করা সম্ভব না হলে তাকে প্রচলিত পদ্ধতিতে পাসপোর্ট স্ক্যান করতে হবে। সেটিও ব্যর্থ হলে তাকে কর্মরত সীমান্ত কর্মকর্তার কাছে গিয়ে পাসপোর্ট পরীক্ষা করাতে হবে।
প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের জন্য চালু করা হলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারীদেরও এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো ব্রিটেনে ফেরার সময় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ সারি ও অতিরিক্ত ভিড় কমানো।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

