বিদেশ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশের সময় ভ্যাপের তরল বা ই-লিকুইড সঙ্গে আনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৫০ মিলিলিটার ই-লিকুইড সঙ্গে নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে পারবেন। নির্ধারিত সীমার বেশি ই-লিকুইড আনলে তা ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর ও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
বর্তমানে বিদেশে ছুটি কাটিয়ে ব্রিটেনে ফেরার সময় ভ্যাপ ব্যবহারকারীরা কত পরিমাণ ই-লিকুইড সঙ্গে আনতে পারবেন, সে বিষয়ে কঠোর নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে।
৫০ মিলিলিটার ই-লিকুইড বলতে সাধারণত ১০ মিলিলিটারের পাঁচটি বোতলের সমপরিমাণ বোঝায়। এর বেশি পরিমাণ ই-লিকুইড নিয়ে কেউ ব্রিটেনে প্রবেশ করলে তাকে অতিরিক্ত পণ্যের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘোষণা করতে হবে এবং প্রযোজ্য কর ও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার বেশি পণ্য নিয়ে এসে তা ঘোষণা না করলে সংশ্লিষ্ট ই-লিকুইড জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। ফলে বিমানবন্দর দিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত ই-লিকুইড বহনকারী যাত্রীদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
অতিরিক্ত ই-লিকুইড আনলে প্রতি অতিরিক্ত ১০ মিলিলিটারের জন্য প্রায় ২.২০ পাউন্ড কর ও শুল্ক দিতে হতে পারে।
শুধু বিদেশ থেকে ই-লিকুইড আনার ক্ষেত্রেই নয়, ব্রিটেনের বাজারে ভ্যাপিং লিকুইডের দামও বাড়তে যাচ্ছে। ১ অক্টোবর থেকে ভ্যাপিং লিকুইডের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতি মিলিলিটার ভ্যাপিং লিকুইডের ওপর ২২ পেন্স, অর্থাৎ প্রতি ১০ মিলিলিটারে ২.২০ পাউন্ড হারে নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হবে। ই-লিকুইডে নিকোটিনের পরিমাণ যতই থাকুক, শুল্কের এই হার একই থাকবে।
এর ফলে বর্তমানে প্রায় ৩.৯৯ পাউন্ডে বিক্রি হওয়া ১০ মিলিলিটারের একটি ই-লিকুইডের দাম নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ৬.৬৩ পাউন্ডে উঠতে পারে।
এদিকে বর্তমানে ১০ মিলিলিটারের তিনটি ই-লিকুইড ১০ পাউন্ডে বিক্রি হলে নতুন শুল্কের কারণে একই ধরনের প্যাকেজের দাম প্রায় ১৭.৯২ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ই-লিকুইডের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৪ সালের স্প্রিং বাজেটে। পরবর্তীতে সাবেক চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস ২০২৫ সালের অটাম বাজেটেও এই কর ব্যবস্থা পুনরায় নিশ্চিত করেন।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে ব্রিটেনে ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে—বিদেশ থেকে প্রবেশের সময় ই-লিকুইড বহনের ক্ষেত্রে ৫০ মিলিলিটারের সীমা এবং দেশে ভ্যাপিং লিকুইড কেনার ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক।
ব্রিটেনে প্রবেশকারী যাত্রীদের তাই ১ অক্টোবর থেকে সঙ্গে থাকা ই-লিকুইডের পরিমাণ এবং অতিরিক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে কর ও শুল্ক সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্রঃ দ্য সান
এমকে

