যুক্তরাজ্যে বহুল ব্যবহৃত ওমিপ্রাজল, ল্যান্সোপ্রাজল ও এসোমিপ্রাজলের মতো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করেছেন জিপি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ডা. ফিলিপা কে। এসব ওষুধকে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর বা পিপিআই বলা হয়। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের চিকিৎসা এবং কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলী সুরক্ষার জন্য এসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে অ্যাসিড রিফ্লাক্সে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৬০ লাখের বেশি। এ সমস্যায় পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসার কারণে বমি বমি ভাব, অস্বস্তি ও বুকে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পিপিআই পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন কমিয়ে এসব উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ডা. ফিলিপা কে ডেইলি মেইলে লিখেছেন, পিপিআই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাজ্যে এসব ওষুধ ব্যবহারকারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ অন্তত এক বছর ধরে এগুলো সেবন করছেন এবং প্রায় ১০ শতাংশ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এখন রোগীদের নিরাপদে সম্ভব হলে যত দ্রুত সম্ভব পিপিআই বন্ধ করার বিষয়ে পরামর্শ দেন। তবে তিনি একই সঙ্গে জানিয়েছেন, সবার জন্য এসব ওষুধ বন্ধ করা উপযুক্ত নয়।
প্রতিবেদনে পিপিআই ব্যবহারের সঙ্গে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি, কিছু ধরনের ক্যানসার, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ এবং বিভিন্ন সংক্রমণের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ডিমেনশিয়ার সঙ্গেও সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করার কথা বলা হয়নি।
যুক্তরাজ্যে প্রায় এক কোটি মানুষ পিপিআই জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন বলে ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাসিড রিফ্লাক্স ছাড়াও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রদাহ কমানোর ওষুধ বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে পাকস্থলী সুরক্ষার জন্য পিপিআই দেওয়া হয়।
ডা. কে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন, পিপিআই হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়। তার মতে, আকস্মিকভাবে ওষুধ বন্ধ করলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই জিপির পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে ওষুধের মাত্রা কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেছেন ডা. কে। এর মধ্যে রয়েছে ওজন কমানো, একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার না খাওয়া, ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে খাবার এড়িয়ে চলা এবং অ্যালকোহল, ধূমপান, ক্যাফেইন, চকলেট, চর্বিযুক্ত খাবার, ঝাল খাবার ও কার্বনেটেড পানীয় কমানো।
ঘুমানোর সময় বিছানার মাথার দিক কিছুটা উঁচু করে রাখলেও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে যেসব রোগীর নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণে পিপিআই প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ করা নাও যেতে পারে। বিশেষ করে কিছু অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ ব্যবহারকারীর জন্য পাকস্থলী সুরক্ষায় পিপিআই প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. কে-এর পরামর্শ হলো, পিপিআই ব্যবহারকারীরা নিজের সিদ্ধান্তে হঠাৎ ওষুধ বন্ধ না করে জিপির সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করবেন এবং প্রয়োজন না থাকলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে ওষুধ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
সূত্রঃ মিরর
এমকে

