TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে গঠিত হচ্ছে ‘ব্রিটিশ এফবিআই’, ২০২৯ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য

ব্রিটেনে জাতীয় পর্যায়ের সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নতুন ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস বা এনপিএস গঠনের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। নতুন এই বাহিনীকে ‘ব্রিটিশ এফবিআই’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে বাহিনীটির কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিসের কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে চান তিনি। পার্লামেন্টে সংশ্লিষ্ট বিল উত্থাপনের পর দ্রুত একজন কমিশনার-ডিজাইনেট নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির এমপিদের সামনে শাবানা মাহমুদ বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন বাহিনীর অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্দেশ্য রয়েছে।

নতুন বাহিনী গঠনের জন্য পুলিশ রিফর্ম বিলের খসড়া তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে থাকা ৪৩টি পুলিশ বাহিনীর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিসের মূল দায়িত্ব হবে জাতীয় পর্যায়ে সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর ও জটিল অপরাধ মোকাবিলা করা। এর ফলে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীগুলো নিজেদের এলাকায় অ্যান্টি-সোশ্যাল বিহেভিয়ারসহ স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলায় আরও বেশি সময় দিতে পারবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

জানুয়ারিতে শাবানা মাহমুদ ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন বাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ দক্ষতা ব্যবহার করে ব্রিটেনের সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রিজিওনাল ক্রাইম হাবস বা আঞ্চলিক অপরাধ কেন্দ্রও গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্র বিভিন্ন অঞ্চল ও সীমান্ত অতিক্রম করে পরিচালিত অপরাধ এবং সবচেয়ে গুরুতর ও জটিল অপরাধের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন জাতীয় বাহিনীর অধীনে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং, রিজিওনাল অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটস, পুলিশ হেলিকপ্টার এবং ন্যাশনাল রোড পুলিশিংয়ের বিভিন্ন ক্ষমতা ও কার্যক্রম একত্রিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন বাহিনী প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার করবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন একজন ন্যাশনাল পুলিশ কমিশনার, যাকে দেশের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব নিয়েও একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে। শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থানে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নেতাদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

শাবানা মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪৩টি পুলিশ বাহিনীকে একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের পুলিশিং এবং জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার একটি লক্ষ্য হলো জাতীয় ও স্থানীয় দায়িত্বের মধ্যে আরও স্পষ্ট সমন্বয় তৈরি করা।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস গঠনে প্রায় ৩৪ কোটি পাউন্ড ব্যয় হবে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ ইতোমধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে। বাকি অর্থ পরবর্তী সরকারি ব্যয় পর্যালোচনার মাধ্যমে বরাদ্দ করার কথা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন বাহিনী গঠনের কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত পুলিশ সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনাও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে শিশুরা

“টু-চাইল্ড বেনিফিট সীমা ওয়েস্টমিনস্টারের সবচেয়ে নিকৃষ্ট নীতি”—অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রিন্স উইলিয়াম