TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে হাস্যকর কাণ্ডঃ অ্যাসাইলাম সেন্টারের প্রতিবাদে দেশ ছাড়তে চায় অক্সফোর্ডশায়ারের গ্রাম

অ্যাসাইলাম সিকারদের আবাসন কেন্দ্র স্থাপনের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে প্রতীকী গণভোটে যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে অক্সফোর্ডশায়ারের ছোট্ট গ্রাম পিডিংটন। তবে এই ভোটের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই এবং এর মাধ্যমে গ্রামটি বাস্তবে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। 
পিডিংটন প্যারিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে মঙ্গলবার এই প্রতীকী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের প্রশ্ন ছিল—পিডিংটন যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না। মোট ৩১২টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ২৮৫ জন যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে, ২৬ জন বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং একটি ব্যালট বাতিল হয়েছে। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ।
প্রায় ৩৫০ জন বাসিন্দার এই গ্রামটি অক্সফোর্ডশায়ারের বিসেস্টারের কাছে অবস্থিত। স্থানীয়দের এই প্রতীকী ভোটের পেছনে রয়েছে কাছাকাছি একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক অ্যাসাইলাম সিকারকে রাখার সরকারি পরিকল্পনা। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেখানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অ্যাসাইলাম সিকারকে আবাসনের পরিকল্পনা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের অভিযোগ, এত বড় একটি আবাসন কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে আলোচনা করা হয়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও প্রস্তাবিত স্থানের অবকাঠামো ও পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
পিডিংটন প্যারিশ কাউন্সিলের আয়োজিত এই ভোটকে স্থানীয় পর্যায়ের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কোনো গ্রাম বা স্থানীয় কাউন্সিল একতরফাভাবে যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হয়ে যেতে পারে—এমন কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই। ফলে ভোটের ফলাফল সরাসরি দেশের সীমানা বা গ্রামের সাংবিধানিক অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
ভোটের ফল ঘোষণার পর প্যারিশ কাউন্সিলের ভাইস চেয়ার সুসান্নাহ পারডেন পিডিংটনকে এমন একটি গ্রাম হিসেবে উল্লেখ করেন, যারা নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান টিম ম্যাকনালি এই ভোটকে স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এদিকে ফলাফল প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ শোনা হবে এবং তাদের হতাশা স্পষ্ট। একই সঙ্গে সরকার অ্যাসাইলাম আবাসনের চাপ বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।
সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যয়বহুল অ্যাসাইলাম হোটেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সাবেক সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাসাইলাম সিকারদের আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হোম অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেল ব্যবহার বন্ধ করার মাধ্যমে সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য রয়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
পিডিংটনের এই প্রতীকী গণভোট এখন স্থানীয়ভাবে অ্যাসাইলাম সিকারদের আবাসন নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে ভোটের ফলাফল প্রতীকী হওয়ায় এর মাধ্যমে পিডিংটন বাস্তবে যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এম.কে

আরো পড়ুন

নামিয়ে দেয়া হলো কিংস ক্রস স্টেশনে প্রদর্শিত রমজানের ইসলামিক বার্তা

যুক্তরাজ্য ভাঙার পথে নতুন জোটঃ গণভোটের দাবিতে একজোট স্কটল্যান্ড,ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ড

বাংলাদেশে প্লট দুর্নীতি মামলার রায় প্রশ্নবিদ্ধ, লেবারের পূর্ণ সমর্থন টিউলিপের পাশে

নিউজ ডেস্ক