13.2 C
London
September 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বার্নহাম সরকারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ক্যাথলিক ও ইহুদি প্রধানমন্ত্রীদের ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিল সংসদে

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সরকার যুক্তরাজ্যের সংবিধানিক কাঠামোতে বহু শতাব্দী পুরনো ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বিধান বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বিলটি ক্যাথলিক বা ইহুদি ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রীকে চার্চ অব ইংল্যান্ডের নিয়োগ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার পূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে।

অ্যান্ডি বার্নহাম তাঁর সরকারের প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে এমন এক আইন সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করেছেন, যা ব্রিটিশ সংবিধানের দীর্ঘদিনের একটি বৈষম্যমূলক বিধানকে অবশেষে বাতিল করতে যাচ্ছে। রোমান ক্যাথলিক বা ইহুদি ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী চার্চ অব ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে রাজাকে পরামর্শ দিতে পারবেন না—এমন বিধান বহু বছর ধরে আইন বইয়ে রয়ে গেছে। বার্নহাম এই বিধানকে “অ্যান্টিকুয়েটেড”, “আর্কাইক” এবং আধুনিক গণতন্ত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

এই নিষেধাজ্ঞার উৎস ১৮২৯ সালের *Roman Catholic Relief Act* এবং ১৮৫৮ সালের *Jews Relief Act*—যে আইনগুলো ক্যাথলিক ও ইহুদি নাগরিকদের জনজীবনে অংশগ্রহণের বহু বাধা দূর করলেও চার্চ নিয়োগে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছিল। ফলে প্রধানমন্ত্রী যদি ক্যাথলিক বা ইহুদি হন, তবে তিনি চার্চ অব ইংল্যান্ড বা চার্চ অব স্কটল্যান্ডের উচ্চপদে নিয়োগের বিষয়ে রাজাকে পরামর্শ দিতে পারেন না।
অ্যান্ডি বার্নহাম নিজে একজন ক্যাথলিক হওয়ায় এই বিধান প্রথমবার বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা পড়ায় তিনি আপাতত এই দায়িত্ব লর্ড চ্যান্সেলরকে অর্পণ করেছেন, যাতে চার্চ নিয়োগের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—একজন প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সাংবিধানিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা “অগ্রহণযোগ্য”।

নতুন বিলটির নাম Church Appointments (Repeal of Discriminatory Provision) Bill । এটি পাস হলে ভবিষ্যতে যেকোনো ক্যাথলিক বা ইহুদি প্রধানমন্ত্রীও চার্চ অব ইংল্যান্ডের নিয়োগে রাজাকে পরামর্শ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা পাবেন। সরকার বলছে, এটি একটি “শর্ট, টার্গেটেড” বিল—যার উদ্দেশ্য শুধু বৈষম্যমূলক বিধান অপসারণ করে আইনকে আধুনিক ও সাম্যের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
বিলটি প্রথম পাঠ (First Reading) পর্যায়ে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে কমিটি ও বিতর্কের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হওয়ার পথ এগোবে। বহু বছর ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকা এই বিধান এখন প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক বাস্তবতায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে—কারণ যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথম একজন ক্যাথলিক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন।
বার্নহাম সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু একটি আইনি সংশোধনী নয়; এটি যুক্তরাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষতা, সমতা ও আধুনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। বহু পুরনো বৈষম্যমূলক বিধান অপসারণের মাধ্যমে সরকার দেখাতে চাইছে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হতে পারে না।

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে গুরুতর অপরাধ আইন সংশোধন করে মানব পাচারকারী চক্র মোকাবিলার উদ্যোগ

ব্রিটেনের সবচেয়ে বিষণ্ণ শহর শীঘ্রই লন্ডন শহরের অংশ হতে যাচ্ছে

হোম অফিসের ভুলে ব্রিটেনের অভিবাসীদের বন্দি জীবন!

নিউজ ডেস্ক