স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের দাবিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। ফার্স্ট মিনিস্টার জন সোয়িনির স্বাধীনতার উদ্যোগের জবাবে ইউনিয়নপন্থি নেতারা পাল্টা রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক অখণ্ডতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরতে তারা স্কটল্যান্ডে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য হেরাল্ড স্কটল্যান্ডের ১৫ সেপ্টেম্বরের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি—ডিইউপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এডিনবরায় সফর করবেন। সেখানে তারা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ‘ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউনিয়নপন্থিরা স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবির বিপরীতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের বর্তমান সাংবিধানিক সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট—যা সাধারণভাবে ইন্ডিরেফ-২ নামে পরিচিত—দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। স্বাধীনতাপন্থিরা স্কটল্যান্ডের জনগণের সামনে ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থান নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে ইউনিয়নপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো যুক্তরাজ্যের বর্তমান কাঠামোর মধ্যে স্কটল্যান্ডের অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে স্বাধীনতাপন্থি ও ইউনিয়নপন্থিদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও প্রকাশ্যে জোরালো হচ্ছে।
এবারের তৎপরতায় উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডিইউপির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা এডিনবরায় গিয়ে যুক্তরাজ্যকে কেন্দ্র করে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন বলে দ্য হেরাল্ড জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়নপন্থি নেতারা জন সোয়িনির স্বাধীনতার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ‘ফাইটব্যাক’ বা পাল্টা রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা সামনে আনা।
স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সোয়িনি স্বাধীনতার প্রশ্নকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি এখন স্কটিশ রাজনীতির পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর সাংবিধানিক বিতর্কেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য হেরাল্ড
এম.কে

