11 C
London
October 7, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ মডেলের প্রশংসায় বিশ্বব্যাংকঃ ২৮ লাখের বেশি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা এবং বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিকে সঠিকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক করার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত করা গেলে এ সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংস্থাটির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ প্রতিবেদনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে সহায়তা প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় থমকে গেছে এবং বিপুলসংখ্যক নারী চাকরি হারিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে কিছুটা সুরক্ষা দিলেও দেশের প্রায় অর্ধেক দরিদ্রতম পরিবার কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। ফলে কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ আরও উন্নত করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা গেলে দরিদ্র পরিবার শনাক্তকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

এদিকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে। বিনিয়োগ কার্যক্রমের ধীরগতি, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়ানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির জন্যও সংস্কার ত্বরান্বিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে জুন ২০২৬-এ ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায় মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাপী অন্যতম নিম্ন পর্যায়।

তবে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি সহজ হওয়া এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের গতি বাড়লে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বিশ্বব্যাংক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছে। দক্ষতা, অবকাঠামো ও সহায়ক কর্মপরিবেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিকে নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস হিসেবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্রঃ বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ প্রতিবেদন

এমকে

আরো পড়ুন

জামায়াত নেতার অবৈধ পাম্পে অভিযান, পানির ট্যাংকে মিলল তেল

দলের ভিতরে ব্যাপক অসন্তোষ: সিলেটের পাঁচ আসনেই পরিবর্তনের চাপ

নিউজ ডেস্ক

‘গার্মেন্টসের পর সেমিকন্ডাক্টর’—বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক রূপান্তরের রূপরেখা