12.3 C
London
June 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে জুলাই থেকে জ্বালানি বিল বাড়ছে ২০০ পাউন্ডের বেশিঃ কঠিন শীতের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার প্রভাবে যুক্তরাজ্যে আবারও বাড়তে যাচ্ছে গৃহস্থালি জ্বালানি বিল। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জুলাই থেকে ব্রিটেনের সাধারণ পরিবারগুলোকে বছরে অতিরিক্ত ২০০ পাউন্ডের বেশি ব্যয় বহন করতে হতে পারে। এতে সামনে “অত্যন্ত কঠিন শীত” অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি দারিদ্র্যবিরোধী প্রচারকর্মীরা।

বুধবার গ্রেট ব্রিটেনের জন্য নতুন জ্বালানি মূল্যসীমা ঘোষণা করবে দেশটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কর্নওয়াল ইনসাইটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য মূল্যসীমা ২০৯ পাউন্ড বেড়ে ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এই সীমা রয়েছে ১ হাজার ৬৪১ পাউন্ডে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে জ্বালানি ব্যয়।

এই মূল্যসীমা সরাসরি মোট বিল নির্ধারণ না করলেও ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবহার যত বেশি হবে, গ্রাহকদের ব্যয়ও তত বাড়বে। গ্রীষ্মকালে জ্বালানির ব্যবহার তুলনামূলক কম থাকায় কিছুটা স্বস্তি থাকলেও শীত ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমে গেলেও অবকাঠামোগত ক্ষতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে অক্টোবরেও জ্বালানি মূল্যসীমা উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। কর্নওয়াল ইনসাইটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যদিও এখনো সাধারণ পরিবারগুলো পুরো প্রভাব অনুভব করেনি, কারণ জ্বালানি মূল্যসীমা প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হয়। এর আগে এপ্রিল মাসে সরকারি কিছু পদক্ষেপের কারণে বিল প্রায় ৭ শতাংশ কমেছিল। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাধ্যবাধকতার ৭৫ শতাংশ ব্যয় পারিবারিক বিল থেকে সরিয়ে সাধারণ কর ব্যবস্থার আওতায় নেয় এবং জ্বালানি কোম্পানি বাধ্যবাধকতা কর্মসূচি বাতিল করে।

তবে নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় সরকারকে দ্রুত সহায়তা পরিকল্পনা ঘোষণার দাবি উঠেছে। এন্ড ফুয়েল পোভার্টি কোয়ালিশনের সমন্বয়ক সাইমন ফ্রান্সিস বলেছেন, পরিবারগুলোর এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আশ্বাস ও আর্থিক সহায়তা। তার মতে, শীত আসার আগেই সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সরকার ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেছেন, বাজার পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ও অস্থায়ী সহায়তা পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে।

এদিকে সরকার জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিনোদন কেন্দ্রের টিকিটে কর কমানো, আগস্ট মাসে ইংল্যান্ডে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বাস ভ্রমণ, জ্বালানি শুল্কে ছাড় অব্যাহত রাখা এবং শতাধিক খাদ্যপণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো।

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জ্বালানি বিল নিয়ে অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যে ভোক্তাদের ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ডব্লিউপিআই স্ট্র্যাটেজির অর্থনীতিবিদ মার্টিন বেক বলেছেন, সাম্প্রতিক খুচরা বিক্রির পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে যে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ মানুষের ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে। তার মতে, পেট্রোলের উচ্চ মূল্য, জ্বালানি বিল বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং ভোক্তাদের আস্থাহীনতা সামনের মাসগুলোতে অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ১২ বছরের শিশু টিকটক চ্যালেঞ্জে প্রাণ হারাল

যুক্তরাজ্যে শীতকালীন সহায়তা পেতে ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন ৯ লাখের বেশি পেনশনার

যুক্তরাজ্যে ভিসাধারীদের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে