TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে দীপাবলির আতশবাজিতে আগুনে পুড়ে ছাই বাড়িঃ বিমা না থাকায় বিপাকে বাড়ির মালিক

ব্রিটেনের ওয়েম্বলিতে সম্ভাব্য দীপাবলির আতশবাজি থেকে লাগা আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে ১৭ বছরের পুরোনো একটি বাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু হারিয়েছে জয়া শেখ ও তার পরিবার। বাড়িটির কোনো বিমা না থাকায় এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে পরিবারটি।

গত ১ নভেম্বর ২০২৬ রাতে বাড়িটির ছাদে আগুন দেখতে পান প্রতিবেশীরা। সে সময় জয়া বাড়ির সামনের অংশে তার ভাইয়ের গাড়ির কাজে সাহায্য করছিলেন। হঠাৎ এক প্রতিবেশী চিৎকার করে জানান, বাড়ির ছাদ থেকে আগুন বের হচ্ছে। এর আগে পরিবারের কেউ আগুনের বিষয়টি বুঝতে পারেননি।

জয়া জানান, তার ভাই প্রথমে পোড়া গন্ধ পেয়েছিলেন। কিন্তু দীপাবলি উপলক্ষে আশপাশে প্রচুর আতশবাজি ফোটানো হচ্ছিল বলে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। পরে হঠাৎ বাড়ির ছাদে বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

জয়া বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের বের করে আনার জন্য আমাদের হাতে মাত্র পাঁচ সেকেন্ড সময় ছিল। এরপর আগুন জ্বলতেই থাকে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আমি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পেরেছিলাম এবং সবাইকে নিয়ে নিরাপদে বাড়ি থেকে বের হতে পেরেছি।’

তিনি মনে করেন, সময়মতো বাড়ি থেকে বের হতে না পারলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানিও ঘটতে পারত।

আগুনে বাড়িটির প্রায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। জয়া বলেন, ‘আমাদের যা কিছু ছিল, সব ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা সেখানে আমাদের জীবন গড়ে তুলেছিলাম। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সবাই ওই বাড়িতে বসবাস করছি। আমাদের জীবনের সব স্মৃতি সেখানে রয়ে গেছে।’

প্রায় ১৭ বছর ধরে বাড়িটিতে বসবাস করছিল পরিবারটি। আগুনের পর প্রকাশিত ছবিতে বাড়িটির ইটের দেয়াল পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া, ওপরের তলার জানালা ভেঙে পড়া এবং ধ্বংসস্তূপ ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী দেখা গেছে।

তবে বাড়িটির কোনো হোম ইন্স্যুরেন্স বা গৃহবিমা ছিল না। ফলে বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগও নেই। এখন পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ওয়েম্বলির স্থানীয় কমিউনিটি। ‘আওয়ার হাউস গট বার্নড ডাউন’ শিরোনামে গোফান্ডমিতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের সহায়তায় এখন পর্যন্ত পরিবারটি ব্যাপক সাড়া পেয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪০ জন ফায়ারফাইটার ও ছয়টি ফায়ার ইঞ্জিন কাজ করে।

ঘটনাটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে আতশবাজি ব্যবহারের ঝুঁকি এবং বাড়ির গৃহবিমার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আতশবাজি ব্যবহারে স্থানীয় কাউন্সিলের বিধিনিষেধ থাকা উচিত, নাকি সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে সুরক্ষার দায়িত্ব বাড়ির মালিকদেরই নিতে হবে—এ নিয়ে আলোচনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডন

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের এসেক্সে কুকুরের কামড়ে প্রাণ গেলো একজন মহিলার

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান উইনস্টন চার্চিলের নাতির

ইসলামবিদ্বেষ ও ব্রিটিশ জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্কে সাদিক খানঃ স্যোশাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া