TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে পূর্ণকালীন চাকরিজীবী পরিবারেও বাড়ছে শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট

ব্রিটেনে জীবনযাত্রার দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন এমন পূর্ণকালীন চাকরিজীবী পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। বার্মিংহামের একটি বেবি ব্যাংক জানিয়েছে, আগে যেখানে তাদের সহায়তা মূলত স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন নিয়মিত চাকরি করা পরিবারগুলোরও শিশুদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে।

বার্মিংহামের সোহো রোডে ‘হ্যান্ডসওয়ার্থ বেবি অ্যান্ড ফ্যামিলি ব্যাংক’ পরিচালনা করেন কাভিতা কৌর ধিলোঁ ও তার স্বামী কারভিন্দর ধিলোঁ। প্রতিষ্ঠানটি শিশু ও পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ডায়াপার, শিশুর ফর্মুলা দুধ, পোশাক, খেলনা, ওয়াইপস ও প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করে।

কাভিতা জানান, শুরুতে তাদের কাছে সহায়তা নিতে আসা অধিকাংশ পরিবারই ছিল স্বল্প আয়ের। কিন্তু বর্তমানে পূর্ণকালীন চাকরিতে থাকা পরিবারের মধ্যেও শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার চাপ বাড়ছে। তার ভাষায়, এখন তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পোশাক নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী—বিশেষ করে ফর্মুলা দুধ, ডায়াপার, ওয়াইপস ও প্রসাধনসামগ্রী।

কারভিন্দর বলেন, কয়েক বছর আগেও বেবি ব্যাংকটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হতো ডায়াপারের। তবে জীবনযাত্রার দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রয়োজনও পরিবর্তিত হয়েছে। এখন পরিবারগুলো শিশুদের জন্য আরও বেশি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তা চাইছে।

বর্তমানে বেবি ব্যাংকটিতে শিশুর ফর্মুলা দুধের চাহিদা বিশেষভাবে বেশি। কাভিতা ও কারভিন্দর জানান, অনেক সময় তাদের মজুতে মাত্র কয়েকটি কৌটা ফর্মুলা দুধ অবশিষ্ট থাকে। ফলে এই সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

কাভিতা বলেন, কেউ ভালো পোশাক পরছেন বা ভালো গাড়ি চালাচ্ছেন বলেই তার আর্থিক সমস্যার প্রয়োজন নেই—এমন ধারণা ঠিক নয়। মানুষের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তার মতে, অনেক পরিবার তাদের আর্থিক সংকট প্রকাশ না করেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এই বেবি ব্যাংকটি দম্পতির পরিচালিত ‘ধিলোঁস বুটিক’ দোকানের ভেতরেই পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে তারা পরিবারগুলোকে সহায়তা দিয়ে আসছেন। একই জায়গায় দোকান ও বেবি ব্যাংক পরিচালনা করার ফলে সহায়তা নিতে আসা মানুষের মধ্যে সামাজিক সংকোচও কিছুটা কমেছে বলে মনে করেন কাভিতা।

তিনি বলেন, কেউ তাদের দোকান থেকে বের হলে বাইরে থেকে দেখে মনে হতে পারে যে সে দোকান থেকে কিছু কিনে বের হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ওই ব্যক্তি বেবি ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যেতে পারেন। কাভিতা এই ব্যবস্থাকে একটি উষ্ণ ও স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে পারাকে নিজের জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কাভিতা। তিনি বলেন, অন্য কাউকে সহায়তা করতে পারা এবং তাকে ভালো থাকতে ও হাসতে সাহায্য করতে পারাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আর্থিক সমস্যায় থাকা পরিবারগুলোকে নীরবে কষ্ট না পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কাভিতা বলেন, সাহায্য চাওয়ার মধ্যে কোনো লজ্জা বা ভয় পাওয়ার কারণ নেই।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্মিংহামের এই বেবি ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তার চাহিদা এখন শুধু স্বল্প আয়ের পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; পূর্ণকালীন চাকরি করা পরিবারগুলোর মধ্যেও এমন সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। এর পেছনে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বেবি ব্যাংক পরিচালনাকারী দম্পতি।

সূত্রঃ বিবিসি

এমকে

আরো পড়ুন

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ দ্রুত বাড়ছে, এখনই পদক্ষেপ জরুরিঃ আফজাল খান এমপি

অনলাইনে রেস্তোরাঁর নেতিবাচক রিভিউ দেওয়ায় ব্রিটিশ পর্যটক গ্রেপ্তার

দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বন্যায় যোগাযোগে অসুবিধা

অনলাইন ডেস্ক