20.5 C
London
September 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইউলেজ নিয়ে সাদিক খানের দাবি, ‘আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম’

লন্ডনে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আল্ট্রা লো এমিশন জোন বা ইউলেজ (ULEZ) চালু ও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের পক্ষে নতুন গবেষণার ফলকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। তার দাবি, ইউলেজ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হলেও লন্ডনবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

ইউলেজ চালু ও পরবর্তীতে এর পরিধি বাড়ানোর সময় ব্যাপক রাজনৈতিক ও জনমত বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন সাদিক খান। তার ভাষায়, সিদ্ধান্তগুলো ছিল ‘অত্যন্ত কঠিন’ এবং বিষয়টি নিয়ে একটি সোচ্চার সংখ্যালঘু গোষ্ঠীও তীব্র বিরোধিতা করেছিল।

মেয়র বলেন, বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে ইউলেজ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। তবে বায়ুদূষণের কারণে লন্ডনবাসীর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলেও তিনি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে চাননি।

সাদিক খানের মতে, নতুন গবেষণার ফল ইউলেজ নিয়ে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা আরও শক্তিশালী করেছে। তার দাবি, গবেষণাটি দেখিয়েছে যে বায়ুর মান উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং ইউলেজ সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মেয়র বিশেষভাবে লন্ডনের শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিষ্কার বাতাসের সুফল শুধু শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে লন্ডনের প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়াই তার অন্যতম লক্ষ্য।

ইউলেজের মূল উদ্দেশ্য হলো বেশি দূষণকারী যানবাহনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে শহরের বায়ুদূষণ কমানো। নির্ধারিত পরিবেশগত মান পূরণ না করা যানবাহনের ওপর চার্জ আরোপের মাধ্যমে পুরোনো ও বেশি দূষণকারী গাড়ির ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে ইউলেজ নিয়ে লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ, নীতিটির কারণে গাড়িচালক ও ছোট ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউলেজের আওতা লন্ডনের সবগুলো বরো পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের সময় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে সাদিক খান ও ইউলেজের সমর্থকদের বক্তব্য, পরিবেশগত বিধিনিষেধের ফলে স্বল্পমেয়াদে কিছু মানুষের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মেয়রের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত দিকটিই আবার সামনে এসেছে। তিনি মনে করেন, নতুন গবেষণার ফল ইউলেজ সম্প্রসারণের মাধ্যমে লন্ডনের বাসিন্দাদের জন্য পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করার নীতিকে আরও সমর্থন করছে।

সাদিক খান বলেন, “এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” একই সঙ্গে তিনি লন্ডনের প্রতিটি শিশুর জন্য পরিষ্কার বাতাসের সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ফলে ইউলেজ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও নতুন গবেষণার ফলকে নিজেদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে লন্ডন কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নটি সামনে রেখে ভবিষ্যতেও শহরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন মেয়র।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউগভ জরিপে ভূমিকম্পঃ ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নাইজেল ফারাজ

যুক্তরাজ্যে ধর্মঘটে যাচ্ছে বর্ডার ফোর্স কর্মকর্তারাঃ টহল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

বিপজ্জনক যাত্রা করা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানাবে যুক্তরাজ্য