তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বা কনস্ক্রিপশনের ডাক উপেক্ষা করলে ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। এমন সতর্কতা দিয়েছেন একজন যুদ্ধবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। তার মতে, সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকারকারীদের কেউ কেউ সামাজিকভাবে সমালোচনা বা লজ্জার মুখে ফেলতে পারেন।
বৃহস্পতিবার ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাজ্যে আবারও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালু হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি বছরের শুরুতে ব্রিটিশ সরকার সেনাবাহিনীর রিজার্ভ বাহিনীতে ডাকার যোগ্য পুরুষদের বয়সসীমা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মস্কোর পক্ষ থেকে সরাসরি পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করার পর পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
যুদ্ধবিষয়ক অধ্যাপক জশুয়া বিলটন বলেছেন, সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়ানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে বিষয়টি সমাজের সব অংশে একইভাবে দেখা হবে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, কেউ সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারেন, আবার কেউ তাদের সমালোচনা বা লজ্জিত করার চেষ্টা করতে পারেন। পরিবার, বন্ধু ও সামাজিক পরিবেশের মনোভাবের ওপর বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
অধ্যাপক বিলটন আরও মনে করেন, বাধ্যতামূলক নিয়োগ ফিরে এলেও অধিকাংশ পুরুষকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে না। তাদের বড় একটি অংশ যুদ্ধশিল্প, বেসামরিক প্রতিরক্ষা এবং যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়ক অন্যান্য খাতে কাজ করবেন।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট বয়সসীমার পুরুষদের মধ্যে মাত্র প্রায় ২৫ শতাংশ সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যেও অনেকে সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে সহায়ক ও অযোদ্ধা দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের লজ্জিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমনটা তিনি মনে করেন না। তবে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীদের মাধ্যমে পরিচালিত ‘হোয়াইট ফেদার ক্যাম্পেইন’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ওই প্রচারণায় সামরিক বাহিনীতে যোগ না দেওয়া পুরুষদের কাপুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।
অন্যদিকে, সাবেক ব্রিটিশ সেনাপ্রধান লর্ড ড্যানাটের মতে, বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে সরকার প্রথমেই সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্যদের সক্রিয় করবে। এরপর সাবেক সেনাসদস্যদের আবার দায়িত্বে ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের দিয়ে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ শুরু হতে পারে।
তার মতে, সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রিজার্ভ ও সাবেক সেনাসদস্যরা প্রাথমিকভাবে দেশের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তবে বিপুলসংখ্যক সাবেক সেনাসদস্যকে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানোও বড় ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

