যুদ্ধ, মহামারি বা বৈশ্বিক সংকটের মতো বড় ধরনের ধাক্কা সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল প্রস্তুত নয় বলে সতর্ক করেছে ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস কমিশনের (NPC) একটি নতুন প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, “worst-case scenario” বা চরম পরিস্থিতি ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে সম্ভাব্য রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ, নতুন মহামারি এবং জলবায়ু সংকটের মতো ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাজ্য জরুরি ওষুধ ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য মজুদের ক্ষেত্রে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে। বর্তমানে ফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহকারীদের অন্তত আট সপ্তাহের বাফার স্টক রাখার নিয়ম থাকলেও তা সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না। প্রাইমারি কেয়ার ফার্মেসির ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারের কোনো জাতীয় “ক্রিটিক্যাল মেডিসিন লিস্ট” বা কৌশলগতভাবে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই, সামরিক প্রয়োজনে সীমিত কিছু প্রস্তুতি ছাড়া।
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্যের অবস্থান দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের মধ্যে ব্রিটেন অন্যতম কম স্বনির্ভর দেশ, যেখানে জাতীয় খাদ্য মজুদ নেই এবং বড় পাইকারি সরবরাহকারীদের জন্যও বাধ্যতামূলক স্টক রাখার নিয়ম নেই। বিপরীতে নরওয়ে ও সুইডেন জরুরি শস্য ও খাদ্য মজুদ পুনর্গঠন করছে এবং কিছু ইউরোপীয় দেশ নাগরিকদের কয়েক দিনের খাবার ও পানি মজুদের পরামর্শ দিচ্ছে।
“Future-proofing Security of Supply in a Contested World” শীর্ষক এই গবেষণায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঘটনাবলি—ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কোভিড-১৯ মহামারি—যুক্তরাজ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের “America First” নীতির কারণে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য এখন আগের মতো শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাচ্ছে না, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
এতে আরও সতর্ক করা হয় যে, যুক্তরাজ্য একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর জাতীয়তাবাদ, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত নীতি, চীনের উৎপাদন নির্ভরতা এবং রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির চাপের মধ্যে পড়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনের লেখক রিচার্ড স্মিথ-বিংহাম বলেন, যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের আরও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “বিপর্যয়কর ঘটনা ঘটবে না—এমন ধারণা ভুল।” উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালের মার্চে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্নের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাজ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী ও স্থিতিশীল এবং ঝুঁকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে একটি CO₂ প্ল্যান্ট পুনরায় চালু করার কথা উল্লেখ করা হয়।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

