18.8 C
London
June 17, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবে হযরত ওমর (রা.)-এর নামসংবলিত বিরল শিলালিপির সন্ধান

সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের আল-মাহদ অঞ্চলে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নাম সরাসরি উল্লেখ করা এক অত্যন্ত বিরল ও ঐতিহাসিক শিলালিপির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস, প্রশাসনিক কাঠামো এবং ভাষাগত বিকাশ সম্পর্কে নতুন তথ্য উদঘাটনে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

প্রাচীন হিজাজি লিপিতে খোদাই করা ওই শিলালিপিতে লেখা রয়েছে, “আল্লাহ ইহকাল ও পরকালে ওমরের রক্ষক এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।”

গবেষকদের ধারণা, শিলালিপিটি ৬৩৪ থেকে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে খোদাই করা হয়েছিল, যা হযরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এটি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফার যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপে শুধু এই শিলালিপিই নয়, একই এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৭০০টিরও বেশি প্রাচীন খোদাইচিত্র এবং ১৭৩টি গোপন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শিলালিপি, প্রতীকী চিত্র এবং প্রাচীন মানববসতির সম্ভাব্য চিহ্ন, যা হিজাজ অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগের শিলালিপি অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এ ধরনের আবিষ্কার ঐতিহাসিক গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে হিজাজি লিপিতে রচিত শিলালিপিগুলো ইসলামের সূচনালগ্নে আরবি ভাষার লিখিত রূপ, ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশভঙ্গি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিকাশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতে সক্ষম।

গবেষকদের মতে, হযরত ওমর (রা.)-এর নাম উল্লেখ করে রচিত এই শিলালিপি ইসলামের বিস্তার এবং তৎকালীন মুসলিম সমাজে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ কেমন ছিল, সে বিষয়েও মূল্যবান তথ্য প্রদান করবে। পাশাপাশি এটি ইসলামের ইতিহাসভিত্তিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

এদিকে, সৌদি আরবের হেরিটেজ কমিশন আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলোর সংরক্ষণ ও নথিভুক্তকরণে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কমিশন ইতোমধ্যে শিলালিপি ও প্রত্নস্থলগুলোর থ্রি-ডি স্ক্যানিং কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য এসব নিদর্শনের ডিজিটাল সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

এ ছাড়া প্রত্নস্থলগুলোকে প্রাকৃতিক ক্ষয়, মানবসৃষ্ট ধ্বংস এবং অননুমোদিত প্রবেশ থেকে রক্ষা করতে বিশেষ সুরক্ষাবেষ্টনী নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামের ইতিহাস-সম্পর্কিত প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। আল-মাহদ অঞ্চলে এই বিরল শিলালিপির আবিষ্কার শুধু মুসলিম বিশ্বের জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক ইতিহাস গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঐতিহাসিকদের ভাষায়, হযরত ওমর (রা.)-এর যুগ ছিল ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এই শিলালিপি ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসকে আরও গভীরভাবে অনুধাবনের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সূত্রঃ ডেইলি সাবাহ

এম.কে

আরো পড়ুন

‘আপনি ইংরেজি শিখলেন কোথায়?’— লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ট্রাম্পের প্রশ্ন

ভবিষ্যৎ মহামারী মোকাবেলায় বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে হবে

দিল্লিতে ‘ককরোচ পার্টি’ বিক্ষোভে উত্তাল ভারতঃ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি