ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকবার্নে ৮০ বছর বয়সী ইসমাইল আহমেদ লেলি ও ৭৮ বছর বয়সী ফাতমা লেলির মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সমর্থন ও সহমর্মিতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে মসজিদ, পরিবার ও একটি দাতব্য সংস্থা। ধর্ম, সংস্কৃতি ও পারিবারিক পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সেন্টান্সফেল্ড স্ট্রিটের মসজিদ-ই-কুওয়াতুল ইসলাম দম্পতির মৃত্যুর পর স্থানীয় মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। হার্ডম্যান স্ট্রিটের কাছেই মসজিদটির অবস্থান, যেখানে গত সপ্তাহে ওই দম্পতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার পরিবারের সদস্য, বেনিফিট ম্যানকাইন্ড দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধিরা, মসজিদের সদস্য এবং স্থানীয় শিশুরা আশপাশের এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করেন। দম্পতির মৃত্যুর পর স্থানীয়রা যে সমর্থন, সংহতি ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তার জন্য তাদের ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুঃখ ও কঠিন পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারেন—এই বিষয়টি তুলে ধরাই ছিল উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের মধ্যে ঐক্য, বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সহমর্মিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়।
এই কর্মসূচিতে সেন্ট লুকসের ভিকার রেভারেন্ড জেসন গার্ডনার, র্যাচেল গার্ডনার এবং সহকারী যাজক জন লাইলস অংশ নেন। তারা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পাশাপাশি দাঁড়ানো এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সহমর্মিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্থানীয় শিশুদেরও উদ্যোগটিতে যুক্ত করা হয়। তারা বাসিন্দাদের মধ্যে উপহার বিতরণ করে। এসব উপহার সরবরাহ করেছে ব্ল্যাকবার্নের মরিসনস।
মসজিদ-ই-কুওয়াতুল ইসলামের এক মুখপাত্র বলেন, স্থানীয় প্রতিবেশী ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মানুষ যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখিয়েছেন, তার জন্য তাদের ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কঠিন সময়ে মানুষের সহমর্মিতার প্রকাশ একটি সম্প্রদায়ের প্রকৃত অর্থকে সামনে নিয়ে আসে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুখপাত্র আরও বলেন, মানুষ বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও পটভূমি থেকে এলেও তারা প্রথমত প্রতিবেশী। শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্মানের মতো মূল্যবোধ সবাইকে একত্রিত করে।
মসজিদের কাছাকাছি বসবাসকারী কোলেট চারনক দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বিস্ময়কর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতি ভালো মানুষ ছিলেন এবং বহু বছর ধরে ওই সড়কে বসবাস করতেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে চারনক বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনের পরিবর্তে একসঙ্গে থাকার বিষয়টির ওপরও গুরুত্ব দেন।
বেনিফিট ম্যানকাইন্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. হাফিজ আবদুস সামাদ মুল্লা বলেন, দুঃখ ও কঠিন সময়ে মানুষের বিভক্ত না হয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ব্ল্যাকবার্নে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষ বসবাস করেন। তবে ভালোবাসা, শান্তি, দয়া ও সহমর্মিতার মতো মূল্যবোধ সবার জন্যই প্রযোজ্য।
ড. মুল্লা আরও বলেন, ঐক্য শুধু ভালো সময়ে একসঙ্গে থাকার বিষয় নয়; প্রতিবেশীরা যখন কষ্টের মধ্যে থাকেন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোও ঐক্যের অংশ। গত এক সপ্তাহে স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এই উদ্যোগের মাধ্যমে সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মানুষকে বিভক্ত করার বিষয়গুলোর তুলনায় তাদের একত্রিত করার মতো বিষয় অনেক বেশি।
এদিকে, হাজি ইসমাইল আহমেদ লেলি ও হাজিয়ানি ফাতমা ইসমাইল লেলির স্মরণে বেনিফিট ম্যানকাইন্ডের উদ্যোগে খোলা জাস্টগিভিং তহবিলে ৫ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগে মসজিদ, পরিবার, দাতব্য সংস্থা, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। দম্পতির মৃত্যুর পর তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি সমর্থন জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সূত্রঃ ল্যাঙ্কাশায়ার টেলিগ্রাফ
এম.কে

