12.2 C
London
March 24, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে রেস্টুরেন্টে অভিবাসন অভিযান নিয়ে বিতর্কঃ অ-শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের টার্গেট করার অভিযোগ

ইংল্যান্ডজুড়ে রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর। তবে এসব অভিযানে অ-শ্বেতাঙ্গ ও বিদেশে জন্ম নেওয়া কর্মীদের আলাদা করে টার্গেট করার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, সারে অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় ভারতীয় রেস্টুরেন্টে হঠাৎ অভিযান চালায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা। ১১ সদস্যের একটি দল রেস্টুরেন্টের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে কর্মীদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাদের পাসপোর্ট দেখতে চায়। রেস্টুরেন্টটির মালিক মন্দিরা মৈত্র সরকার অভিযোগ করেন, কর্মকর্তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করেন এবং তাদের কর্মকাণ্ড ছিল “ভয়ভীতি সৃষ্টিকারী”।

তিনি জানান, অভিযানের সময় কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন, পড়াশোনা ও পারিবারিক বিষয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়, যা তার কাছে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। প্রায় ৩৭ মিনিট ধরে চলা অভিযানে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।

একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে লন্ডনের একটি ভেগান চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। সেখানে কর্মকর্তারা মূলত অ-শ্বেতাঙ্গ ও বিদেশি কর্মীদেরই আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে অভিযোগ করেন রেস্টুরেন্টটির ব্যবস্থাপক। এমনকি অভিযানের ভিত্তি ছিল একটি অজ্ঞাত সূত্রের অভিযোগ, যেখানে “অবৈধ বাঙালি কর্মী” থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১৭ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি। এসব অভিযানে বিপুল সংখ্যক গ্রেপ্তার হলেও, পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য অংশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানায় অধিকারকর্মীরা।

অভিবাসী অধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে এই অভিযানগুলো “প্রদর্শনীমূলক” এবং বাস্তব ফলাফলের তুলনায় ভয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যই বেশি। তারা আরও অভিযোগ করেন, এসব অভিযান মূলত অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই বেশি পরিচালিত হচ্ছে, যা বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিংয়ের ইঙ্গিত দেয়।

আইনগতভাবে, ২০০৩ সালের লাইসেন্সিং আইনের আওতায় কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওয়ারেন্ট ছাড়াই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনের অপব্যবহার করে অনেক সময় কর্মকর্তারা তাদের নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করছেন।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র দপ্তর তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, সব অভিযানই তথ্যভিত্তিক এবং এতে বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের কোনো ভূমিকা নেই। তাদের মতে, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ বৈধ ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

তবে এসব অভিযানের প্রভাবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, হঠাৎ অভিযান ও প্রকাশ্য জিজ্ঞাসাবাদ তাদের সুনাম নষ্ট করছে এবং কর্মীদের মধ্যে ভয় তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের নামে পরিচালিত এসব অভিযান এখন শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, বরং এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

আমেরিকান সিক্রেট এজেন্টের কারণে যুক্তরাজ্যের এক নার্সের জীবন ঝুঁকির মুখে

টিএফএল লন্ডন ইউলেজ জরিমানা উপেক্ষা করায় ১,৪০০ যানবাহন জব্দ

ছুটি কাটাতে বিদেশ গেলে ৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা ব্রিটিশদের

নিউজ ডেস্ক