13.3 C
London
October 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ২০০ ধনকুবেরের ওপর কড়া নজরদারিঃ কর ফাঁকি ঠেকাতে বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ

ব্রিটেনে কর ফাঁকি ও কর পরিশোধে অনিয়ম ঠেকাতে ২০০ জনের বেশি ধনকুবেরের জন্য বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ দিচ্ছে দেশটির রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ (এইচএমআরসি)। ধনীদের কাছ থেকে প্রাপ্য কর আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে অতিরিক্ত অন্তত ৫০ কোটি পাউন্ড রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বুধবারের বাজেট ঘোষণার পর এইচএমআরসি জানায়, যুক্তরাজ্যে কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে—এমন ধনকুবেরদের প্রথমবারের মতো একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন কি না, শুধু তার ওপর কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নির্ভর করবে না। যাদের যুক্তরাজ্যে কর-সংক্রান্ত দায় রয়েছে, তাদের এই উদ্যোগের আওতায় আনা হবে।

প্রতিটি ধনকুবেরের জন্য একজন করে ‘কাস্টমার কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার’ বা কর-অনুবর্তিতা বিষয়ক বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। এসব কর্মকর্তার কাজ হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর-সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা এবং কর জমা দেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছামূলক আলোচনা করা।

এইচএমআরসি বলেছে, ধনকুবেরদের আর্থিক কার্যক্রম প্রায়ই একাধিক কর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে। ফলে তাদের কর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আগাম আলোচনার মাধ্যমে করদাতাদের আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরি করা এবং পরবর্তী কার্যক্রম আরও কার্যকর করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

শুধু বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ নয়, ধনী ব্যক্তিদের আর্থিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নতুন প্রযুক্তিও ব্যবহার করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় সতর্কসংকেত ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য কর-সংক্রান্ত ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা হবে। এর ফলে যেসব ক্ষেত্রে কর পরিশোধে অনিয়মের আশঙ্কা বেশি, সেখানে নজরদারি জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এইচএমআরসির সংজ্ঞা অনুযায়ী, গত তিন বছরের যেকোনো এক বছরে যাদের বার্ষিক আয় দুই লাখ পাউন্ডের বেশি অথবা সম্পদের মূল্য ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি, তারা ধনী করদাতাদের এই বিস্তৃত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনাদায়ী করের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৩৬০ কোটি পাউন্ড। যুক্তরাজ্যের সব করদাতার কাছ থেকে প্রাপ্য মোট করের যে অংশ আদায় করা যায়নি, তার প্রায় ৬ শতাংশ এই শ্রেণির কর-ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১০০০ কোটি পাউন্ড কর রাজস্ব সংগ্রহের বৃহত্তর সরকারি লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে নতুন উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তত ৫০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে বলে আশা করছে এইচএমআরসি।

গত বছরের জুলাইয়ে সংসদীয় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির মুখোমুখি হয়ে ধনী করদাতাদের কর পরিশোধের বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করতে না পারার জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছিল সংস্থাটি। সে সময় প্রায় ১৩ লাখ ধনী করদাতার কর-অনুবর্তিতা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

আইনজীবী প্রতিষ্ঠান আরপিসির কর, তদন্ত ও আর্থিক অপরাধবিষয়ক প্রধান অ্যাডাম ক্র্যাগস বলেছেন, যাদের বার্ষিক আয় দুই লাখ পাউন্ডের বেশি অথবা নিট সম্পদের মূল্য ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি, তাদের যুক্তরাজ্যে নিজেদের কর-সংক্রান্ত অবস্থান কতটা পরিষ্কার এবং তা প্রমাণের জন্য কী নথি রয়েছে, তা পর্যালোচনা করা উচিত।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

সরকারের প্রতি দলীয় এমপিদের অনাস্থা, সরে দাঁড়াতে চান থেরেসা মে

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনাঃ নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগেও গ্রেপ্তার

শাবির আহমেদকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি, ‘অপরাধী বানিয়েছে ব্রিটেন’—পাকিস্তান