20.5 C
London
June 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেন থেকে ১০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের ঘোষণা নাইজেল ফারাজের

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজাল ফারাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি “অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস” নামে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার আওতায় ব্রিটেন থেকে ১০ লক্ষেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ফারাজ দাবি করেন, বর্তমান আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তিনি ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস (ECHR) থেকে বেরিয়ে আসা, হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট ১৯৯৮ বাতিল করা এবং শরণার্থী কনভেনশন থেকে অব্যাহতি নেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি “ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন (মাস ডিপোর্টেশন) অ্যাক্ট” নামে নতুন আইন পাস করার কথাও বলেন তিনি।

তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের জন্য আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখার ক্ষমতা চালু এবং বহিষ্কারের পর পুনরায় প্রবেশ করলে কঠোর শাস্তির বিধান করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফারাজ আরও জানান, “ইউকে ডিপোর্টেশন কমান্ড” নামে নতুন একটি সংস্থা গঠন করা হবে, যা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করবে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ২৪ হাজার মানুষের জন্য ডিটেনশন সুবিধা তৈরির লক্ষ্যও ঘোষণা করেন তিনি।

তার বক্তব্যের একটি অংশ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় রিফর্ম পার্টি জয়ী হবে সেখানে ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে না। বিপরীতে, যেসব এলাকায় গ্রিন পার্টি শক্তিশালী, সেসব এলাকাকে ইমিগ্রেশন রিমুভাল সেন্টারের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এছাড়া পাকিস্তান, সোমালিয়া, ইরিত্রিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও সুদানের মতো দেশগুলোকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে বাধ্য করতে ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দেন ফারাজ। তার দাবি, এসব দেশের অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য।

ফারাজ আরও অভিযোগ করেন, কিছু সরকারি কর্মকর্তা জেনে-শুনে বিদেশি যৌন অপরাধীদের যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং পেনশন বাতিলের কথাও বলেন তিনি।

তার এই বক্তব্যের পর মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এমন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও শরণার্থী সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে ফারাজের সমর্থকদের দাবি, যুক্তরাজ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে কঠোর করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করেই জনসমর্থন বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে রিফর্ম ইউকে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

এখনও ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে নাই

ব্রিটেনে ১৫ লাখ মানুষ প্রতিমাসে ৭৩৭ পাউন্ড সহায়তা পাচ্ছেন

ব্রিটেনে কাজ এখন লাভজনক নয়: অর্থনীতি ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে