TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রেক্সিটের পর নতুন মোড়ঃ ইউরোপীয় কনফেডারেশনে যোগ দিতে পারে যুক্তরাজ্য

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য একটি নতুন ‘ইউরোপীয় কনফেডারেশনে’ যোগ দিতে পারে। এর মাধ্যমে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যবিষয়ক একক বাজারে আবার প্রবেশাধিকার পেতে পারে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবাধ চলাচল নীতি গ্রহণ কিংবা ব্রিটিশ পাউন্ড বাদ দিয়ে ইউরো চালুর প্রয়োজন হবে না।

প্রস্তাবিত কনফেডারেশনে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ইউক্রেন, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে এবং পশ্চিম বলকান অঞ্চলের দেশগুলোকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধু ব্রিটেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সহজ করা নয়; বরং ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি নতুন কাঠামো তৈরি করা।

এই পরিকল্পনার আওতায় প্রয়োজন হলে ইউরোপের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এমনকি ইউরোপের নিরাপত্তা গুরুতরভাবে হুমকির মুখে পড়লে ব্রিটেন তার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও ব্যবহারের অঙ্গীকার করতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রেক্সিটের কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে সরকারের কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েলও প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবহিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে একটি শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই বৈঠকে জ্বালানি, খাদ্য রপ্তানি এবং তরুণদের জন্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার মতো বিভিন্ন বিষয়ে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

‘ইউরোপীয় কনফেডারেশন’ গঠনের পরিকল্পনাটি তৈরি করেছেন সাবেক কনজারভেটিভ এমপি নিক বোলস। বর্তমানে তিনি লেবার পার্টির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন এবং সরকার গঠনের প্রস্তুতির সময় স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গেও কাজ করেছিলেন।

বোলসের যুক্তি, শুধু যুক্তরাজ্যের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ আদায়ের চেষ্টা করলে আলোচনায় সফল হওয়া কঠিন হবে। তবে এমন একটি বৃহত্তর প্রস্তাব দেওয়া হলে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সমস্যারও সমাধান করা সম্ভব হবে, তাহলে ব্রিটেনের প্রস্তাব গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

বিশেষ করে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ইস্যুকে এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবটির মাধ্যমে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তরাজ্য একক বাজারে পণ্য প্রবেশাধিকার পেলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবাধ চলাচল নীতি মেনে নিতে বাধ্য হবে না। একইভাবে ব্রিটিশ পাউন্ড বিলুপ্ত করে ইউরো গ্রহণেরও প্রয়োজন হবে না। ফলে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের যেসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে, সেগুলোর কিছু এড়িয়ে ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার একটি পথ তৈরি হতে পারে।

তবে এটি এখনো একটি প্রস্তাব এবং কোনো চূড়ান্ত সরকারি চুক্তি নয়। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ব্রিটেনের সঙ্গে ইউরোপের সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে দেখা করে তালগোল পাকালেন বাইডেন

ম্যানচেস্টার হামলার পর লন্ডনে প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল নিষিদ্ধের দাবি জোরদার

লন্ডনে স্ন্যাপচ্যাটে শিশু নিয়োগঃ আইফোন চুরিতে সক্রিয় অপরাধ চক্র