TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

ভাতা বাড়লেও দুশ্চিন্তা বাড়ছেঃ যুক্তরাজ্যের পেনশন বয়স ৬৭-তে যাচ্ছে

যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়ার বয়স ধীরে ধীরে ৬৬ থেকে ৬৭ বছরে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তন সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আগামী দুই বছরে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে লাখো মানুষের অবসর গ্রহণের সময় পিছিয়ে যাবে।

প্রথম ধাপে প্রভাব পড়ছে ১৯৬০ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে-র মধ্যে জন্ম নেওয়া নাগরিকদের ওপর। তারা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অন্তত এক মাস বেশি অপেক্ষা করে পেনশন পাবেন। সরকার বলছে, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে পেনশন ব্যবস্থা টেকসই রাখা যায়।

তবে এই পরিবর্তনে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে। প্রেস্টনের বাসিন্দা পিটার ব্র্যাডবুরি জানান, আগে তিনি ভেবেছিলেন ৬৫ বছর বয়সেই পেনশন পাবেন, কিন্তু এখন তাকে আরও সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, এতে দৈনন্দিন খরচে বড় প্রভাব না পড়লেও জীবনের অতিরিক্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। লিভারপুলের এক স্কুলকর্মী লরা উইলিয়ামস মনে করেন, তার পেনশন বয়স হয়তো ৭০ বছর বা তারও বেশি হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবসরের সময় শরীরের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় জীবনের অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

অর্থনৈতিকভাবে এই পদক্ষেপ সরকারের জন্য বড় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর প্রভাব সব শ্রেণির মানুষের ওপর সমানভাবে পড়বে না।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও শারীরিকভাবে দুর্বলদের জন্য এই পরিবর্তন বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। যাদের কর্মজীবন অনিয়মিত বা জাতীয় বীমা অবদান পূর্ণ নয়, তাদের পেনশন প্রাপ্তি ও পরিমাণ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গড় মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ট্রিপল লক’ নীতির আওতায় পেনশন ৪.৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন ফ্ল্যাট-রেট পেনশন বেড়ে সপ্তাহে ২৪১.৩০ পাউন্ড এবং পুরনো বেসিক পেনশন ১৮৪.৯০ পাউন্ডে উন্নীত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পেনশন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; যারা এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের বিশ্লেষকদের মতে, যারা আগে থেকেই বেকার বা অসুস্থ, তাদের জন্য কর্মজীবন দীর্ঘায়িত করা সহজ নয়।

এর আগে পেনশন বয়স বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছিল, বিশেষ করে নারী অধিকার সংশ্লিষ্ট আন্দোলনগুলোতে। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, পর্যাপ্ত আগাম সতর্কতা না দেওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বর্তমানে পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪৪ থেকে ২০৪৬ সালের মধ্যে পেনশন বয়স আরও বাড়িয়ে ৬৮ করা হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে সরকার পুনর্বিবেচনা করছে।

সব মিলিয়ে, পেনশন বয়স বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ একদিকে সরকারের জন্য অর্থনৈতিক স্বস্তি নিয়ে এলেও, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অবসর জীবন, স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় না কনজারভেটিভ দলঃএসএনপি

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে জন্মহার হ্রাসের কারণে স্কুলের চাহিদা কমছে

আয়ারল্যান্ড হতে আশ্রয়প্রার্থী ফিরিয়ে নেবে না যুক্তরাজ্যঃ ডাউনিং স্ট্রিট