TV3 BANGLA
আমেরিকা

ভারতীয় পণ্যে ১০০% শুল্কের খড়গঃ রাশিয়ার তেল কেনায় দিল্লির ওপর বাড়ছে মার্কিন চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এমন একটি বিল আরও এক ধাপ এগিয়েছে, যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা ভারতসহ অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলটি প্রাথমিক ভোটে ২১৪-২১১ ব্যবধানে অনুমোদন পেয়েছে। বুধবার বিলটির চূড়ান্ত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদন করে। প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত ভোটেও বিলটি পাস হলে পরবর্তী ধাপে এটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউজে পাঠানো হতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্যভাবে এর আওতায় ভারত ও চীনের পাশাপাশি তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সিঙ্গাপুর ও কাজাখস্তানের মতো দেশও পড়তে পারে।

বিলটির মূল লক্ষ্য রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ চালানোর জন্য দেশটির রাজস্ব কমানোর উদ্যোগকে আরও জোরদার করা। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রুশ নেতৃত্ব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে সহায়তা করা জাহাজগুলোকেও আনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর জাহাজও রয়েছে।

একই বিলে ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সীমিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত ‘ইরান স্যাংশন অ্যাক্ট’-এর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে রাশিয়ার তেল রপ্তানির বাজারে বড় পরিবর্তন আসে। পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকগুলো রুশ জ্বালানি কেনা কমিয়ে দেওয়ার পর ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বড় পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করে।

ভারতের পক্ষ থেকে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দেশের ভোক্তাদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, রুশ জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ মস্কোর অর্থনীতিকে সমর্থন করে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়নে ভূমিকা রাখে।

বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। এছাড়া বিভিন্ন পরিমাণে রুশ জ্বালানি আমদানি করে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান ও জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশ।

প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার কারণে এসব দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিলটি আইনে পরিণত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে না। বরং আইনটি প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে।

ভারতের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য প্রভাব মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির রপ্তানির ওপর পড়তে পারে। ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে মার্কিন আমদানিকারকদের জন্য পণ্য আমদানির ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপ তৈরি হওয়ার এবং মার্কিন বাজারে কিছু ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিলটি নিয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ প্রেসিডেন্টের হাতে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অতিরিক্ত বিস্তৃত হওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সিনিয়র ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিক্স বিলটির এমন বিধানের সমালোচনা করেছেন, যা প্রেসিডেন্টকে ব্যাপকভাবে তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ আরোপের সুযোগ দিতে পারে।

তবে ভোটাভুটিতে দুই ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত ভোটে বিলটি অনুমোদন পেলে সেটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউজে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের জন্য নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হবে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

পোপকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অশালীন’ মন্তব্য, ক্ষেপলেন মেলোনি

বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদির ওপর হামলা

অনলাইন ডেস্ক

রমজানের শুভেচ্ছাবার্তায় বাইডেনের মুখে চীনের উইঘুর এবং মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা